ArabicBengaliEnglishHindi

পরিতোষ যখন জন হীরা


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৪, ২০২২, ৭:০২ অপরাহ্ণ / ৫৫
পরিতোষ যখন জন হীরা

ক্রাইম ডেক্সঃ পৃথিবীতে যারা নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন কেউ হয়েছেন বিখ্যাত না হয় কুখ্যাত। মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন ফুলবাড়ীগেট সংলগ্ন মহেশ্বরপাশা এলাকার উত্তর বণিকপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী কালভেরী এ্যাপেষ্টলিক চার্চ এর বিশপ ডঃ জন হীরা ছিলেন পরিতোষ। তারা চার ভাই সুরেশ,পরেশ,গিরিশ এবং পরিতোষ। জন হিরা এলাকায় পরিতোষ নামে পরিচিত। তার পৈত্রিক নিবাস গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রামে। বিশপ বা ধর্মগুরু যারা আছেন এলাকার সাধারণ জনগন তাদের অত্যন্ত্য শ্রদ্ধা বা সম্মানের চোখে দেখেন জন হীরা তার সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি তার গ্রাম এবং কালভেরী এ্যাপেষ্টলিক চার্চ এর সদস্য মন্ডলীদের সাথে দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি এতোটাই দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েছেন ,ডাঃ জন হীরা গত-০৫-০৩-২০২০ইং তারিখে বিজ্ঞ খুলনা সি এম এম আদালতে হাজির হয়ে এডিসন হিরাসহ ১২ জন কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারে ডঃ জন হীরা তার অধীনে কর্মরত ষ্টাফদের বিরুদ্ধে চুরি,চাদাবাজি এবং হুমকীর অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত দৌলতপুর থানাকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন।বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় এই মামলা দৌলতপুর থানার এস আই (নিঃ)/ কানাই লাল মজুমদার বিপি-৮৪১১১৪৬৮৯৮ সম্পন্ন করেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই (নিঃ)/ কানাই লাল মজুমদার বাদী কর্তৃক আনীত অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোন প্রমাণ না থাকায় এজহার নামীয় আসামীদের অব্যহতি দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত রিপোর্ট তথ্যগতভ’ল নং-০৫ ২৩-০৩-২০২০ খ্রিঃ ধারা আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২ (অধিকতর সংশোধন ২০১৯) এর ৪/৫ দাখিল করেন। তিনি(জন হিরা) দৌলতপুর থানার এস আই (নিঃ)/ কানাই লাল মজুমদার বিপি-৮৪১১১৪৬৮৯৮ কর্তৃক তদন্তকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে না – রাজী দেন । বিঞ্জ খুলনা সি এম এম আদালত পুনরায় উক্ত মামলা পিবিআই কে এম পি খুলনা কে তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই পুনরায় তদন্ত করে । তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ লুৎফর রহমান আরো ০৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেন সিআরপিসি ১৬১ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করেন। বাদী (জন হীরা)র বক্তব্য একই। তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ লুৎফর রহমান তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে পুনরায় চূড়ান্ত তথ্যগত নং -০১ তাং ০৬-০১-২০২১ খ্রিঃ ধারা আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২ (অধিকতর সংশোধন ২০১৯) এর ৪/৫ দাখিল করেন। বাদী (জন হীরা) পুনরায় না- রাজী আবেদনের পরীপেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত পুলিশ রিপোর্ট অগ্রাহ্য করতঃ মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি খুলনা জেলা এন্ড মেট্রো কে নির্দেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তভার সিআইডি অধিগ্রহণ করতঃ স্মারক নং এসএস/খুলনা/কোর্ট/১/২০২১/৩৯/১(৯),তাং ২৮-০২-২০২১ খ্রিঃ জনাব শফিকুল ইসলাম পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) উপর দায়িত্ব অর্পিত হয়। চৌকস পুলিশ পরিদর্শক জনাব শফিকুল ইসলাম অনুরুপ তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন ফুলবাড়ীগেট সংলগ্ন মহেশ্বরপাশা এলাকার উত্তর বণিকপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী কালভেরী এ্যাপেষ্টলিক চার্চ এর বিশপ সব সময়ই ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছেন । তিনি সব সময়ই চার্চকে তার বর্ম হিসাবে ব্যবহার করেছেন। কালভেরী এ্যাপষ্টলিক চার্চের পক্ষে পাষ্টর বিধান বৈরাগী বলেছেন“ বিশপ ডঃ জন হীরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৫/২০ টা অঙ্গরাজ্যে খ্রীষ্ট ধর্ম প্রচার করে যে উপহার পান তাতে কি তার গরীব থাকার প্রশ্ন উঠে ? ব্যক্তিগত উপহার ও মিশনারী ফান্ড সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যক্তিগত উপহার তিনি ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারেন।” আসলে কি তাই ! পৃথিবীর সবাই জানে ,যুক্তরাষ্ট্র খ্রীষ্টান ধর্মের মানুষই সংখ্যা গরিষ্ট । তারা খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রচুর অর্থ খরচ করে। সেই দেশে জন হীরা ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গিয়েছেন বিষয় টি কতটুকু হাস্যকর ! বিশপ জন হীরা সব সময় তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করেছেন। তিনি তার অপকর্মের জন্য সব জায়গায় নিন্দনীয় ব্যক্তি। তিনি যে পদ টি অলংকৃত করেছেন তিনি সেই পদটিকে করেছেন কলংকিত। যুক্তরাষ্ট্রে জন হীরা কে যে উপহার দেওয়া হয়েছে তার ব্যক্তিত্বের কারণে নয়,বিশপ পদবী টি থাকার কারণে। উনি হয়ত বোঝেন না ব্যক্তি এবং পদ দুটি আলাদা জিনিস।পাষ্টর বিধান বৈরাগী বলেছেন,“ বিদেশী সংস্থা মিশনারী প্রতিষ্ঠান কে ব্যবসা করার জন্য অনুদান প্রদান করেন না। তদরুপ আমাদের বিশপ মহোদয় ও কালভেরী এ্যাপষ্টলিক চার্চের কোন ব্যবসা প্রতিষ্টান নাই। জমি জায়গা যাহা আছে তাহা মিশনারীগন অবগত আছে।” প্রমানসহ উল্লেখ করা হয়েছে তিনি ব্যবসার সাথে জড়িত ( তার মাছের ঘের ,শিল্প নগর ছবি)এবং তিনি কারো কাছে কোন জবাবদিহীতা করেন না। আমরা অর্ কখনই কোন ধর্ম কে বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কে বিতর্কিত করি না বরং শ্রদ্ধার চোখে দেখি । আমরা সব সময়ই চাই মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন ফুলবাড়ীগেট সংলগ্ন মহেশ্বরপাশা এলাকার উত্তর বণিকপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী কালভেরী এ্যাপেষ্টলিক চার্চ অত্যন্ত ভাল ভাবে চলুক।বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধারনা চার্চ মানেই ভাল মানের স্কুল কলেজ হাসপাতাল যেখানে সব ধর্মের মানুষ কে সমান চোখে দেখা হয়।

(আগামী পর্বে পরিতোষ বাবু ওরফে জন হীরার সম্পত্তির বিবরন প্রমানসহ উপস্থাপন করব)

%d bloggers like this: