পঞ্চগড়ে কয়েকদিন ধরে চলছে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা জনজিবন কাহিল হয়ে পড়েছে


প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ৮, ২০২৩, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ / ১৯১
পঞ্চগড়ে কয়েকদিন ধরে চলছে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা জনজিবন কাহিল হয়ে পড়েছে

মাজহারুল ইসলাম পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় জেলা দেশের উত্তরে হিমালয়ের কোল ঘেষা হওয়ায় পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত তিন দিন ধরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। বাড়ছে শীতের তীব্রতাও।

রোববার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত শনিবার ও শুক্রবারও এখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আকাশে মেঘ ও কুয়াশা কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কমবে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ মধ্যে ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

জেলায় সকাল ৮/৯টা পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে চারদিক। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে যাচ্ছে। সকাল পর্যন্ত যানবাহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচল করছে। শীতের এ সময়টাতে চরম দুর্ভোগে পড়ছে রিকশা-ভ্যান, অটোচালক, দিনমজুর খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। সকালে তারা কাজে যেতে পারছে না। কনকনে ঠান্ডার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। দৈনন্দিন আয় রোজগার কমে গেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র অসহায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা।

শীতজনিত কারণে হাসপাতালগুলোতে বয়স্ক ও শিশু রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন শীতার্ত প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কাছে কম্বল বিতরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

বোদা উপজেলার কলেজ পাড়ার  ভ্যানচালক আব্দুর রহিম (৪৫) জানান, সকাল ৮/৯টা পর্যন্ত কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না। সকালে বাড়ি থেকে বের হলেও রাস্তাঘাটে লোকজন না থাকায় আয় রোজগার নাই। বিপদে আছি।

পঞ্চগড়ের মোঃ জনিব হোসেন(শিক্ষার্থী) ও আবু জাফর ( ভ্যানচালক যতনপুখুরী) জানান,  বাতাস আর কুয়াশার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারি না। বাইরে বের হলে ঠান্ডা লাগে। কাম কাজ নাই। পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তৌফিক আহমেদ জানান, হাসপাতালের ১০০ শয্যার বেডে এখন রোগী ভর্তি রয়েছে ১৬৪ জন। ফলে অনেক রোগীকে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে। বহিঃবিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট রোগীও রয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের এই সময়ে উষ্ণ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান রোকন জানান, উত্তরের হিমেল বাতাসে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আজকে সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া ও শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার ও শুক্রবার এখানে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঘনকুয়াশা বাড়লে কোন কোন সময় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আবার যখন আকাশ পরিস্কার থাকে কুয়াশা থাকে না হিমালয়ের হিমেল বাতাস সরাসরি এই এলাকায় প্রবাহিত হয় তখন তাপমাত্রা নিচে নেমে যায়। বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে।শীত ও ঠান্ডা নিবারনের জন্য পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে।এই মুহুর্তে শীতবস্ত্র ও ত্রান বিতরন প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মত প্রকাশ করেছেন।