ArabicBengaliEnglishHindi

উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ তাপমাত্রা কমবে সর্বনিম্ন চুয়াডাঙ্গায় ৮.৫


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩০, ২০২২, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ / ৪৬
উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ তাপমাত্রা কমবে সর্বনিম্ন চুয়াডাঙ্গায় ৮.৫

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃ দেশের উত্তরাঞ্চলে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। চলতি বছর এটাই প্রথম উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলায় চলছে একসাথে শৈত্যপ্রবাহ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। ফলে নতুন করে গরম কাপড়ের বেচাকেনা কিছুটা বেড়েছে। চলতি শীতে রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই প্রথম ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নেমেছে সাড়ে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

রাজধানীবাসী এই প্রথম তুলনামূলক একটু বেশি ঠাণ্ডা অনুভব করছে। তবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে ঢাকার তুলনায় অনেক বেশি ঠাণ্ডা পড়েছে। শীতে কাঁপছে ওই সব এলাকার মানুষ। বিশেষ করে প্রান্তিক আয়ের মানুষের কষ্টের সীমা নেই। লেপ-কম্বল না থাকায় রাত কাটছে আগুন জ্বালিয়ে। শৈত্যপ্রবাহ ছাড়াও এসব এলাকায় পড়ছে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা। বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী, নওগাঁ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং তা আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ, আংশিক মেঘলা আকাশ ও কুয়াশার কারণে দিনের বেশির ভাগ অংশে সূর্যকিরণ থাকে না। ফলে দুপুরের দিকে সামান্য সময়ে জন্য একটু উষ্ণতা পাওয়া গেলেও বিকেল হতে না হতেই আবারো ঠান্ডা জেঁকে বসছে। তবে আগামী রোববারই নিম্ন তাপমাত্রার কিছুটা উন্নতি হবে, সারা দেশে শীতের মাত্রাও কমে উষ্ণতা অনুভূত হবে সারা দেশে।

আগামী রোববার থেকে সামান্য উষ্ণতা বাড়লেও এর দু’দিন পর আগামী মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা আবার কমে যেতে পারে। এ সময় শৈত্যপ্রবাহের আওতা বেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শীত অনুভূত হবে। তখন হয়তো কোনো কোনো এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর নিম্ন তাপমাত্রার চেয়ে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে নিম্ন তাপমাত্রা তুলনামূলক কম ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁও, নীলফামারী ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি বছর শীতের মৌসুমটা ঠিক সময়ে শুরু হলেও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত শীত পড়েনি। কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহ এক দিন অবস্থান করলেও দু’দিন পরই আবহাওয়া গরম হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে শীতের মাত্রা ও শীতকাল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব হচ্ছে বলে মনে করছেন জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা। শীতের স্থায়ীত্বকাল কমে গিয়ে বাড়ছে গরম ও শুষ্কতার মৌসুম। এ ছাড়াও বর্ষা মৌসুম সঠিক সময়ে শুরু না হয়ে তার আগে শুরু হচ্ছে এবং শেষ হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের পর। এ কারণে পৃথিবীর এক অংশে (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়) চলছে বম্ব সাইক্লোন (শীতের ঠাণ্ডাঝড়) অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়ায় তাপমাত্রা এমন বেড়েছে যে, সেখানে যেকোনো সময় চরম তাপপ্রবাহ শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে বলে এখানে আবহমানকালের ঋতু পরিবর্তন সময় মতো হচ্ছে না এবং এসব ঋতুর যে স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য তা দেখা যাচ্ছে না।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়। এখানে উত্তরের হিমেল বাতাস আর প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জনজীবন অতিষ্ঠ পড়েছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরো প্রচণ্ডভাবে জেকে বসেছে প্রচণ্ড শীত। চার দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল বৃস্পতিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই জেলায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় হতদরিদ্র মানুষেরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী, বোদা, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে প্রচণ্ড শীতের তীব্রতায় দরিদ্রদের চরম দুর্ভোগ চোখে পড়েছে। খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সকালে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় কাজে যেতে পারছে না তারা। এরপরেও পরিবারের সদস্যদের দুইবেলা খাবার আর কিস্তির টানে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করেই তাদেরকে কাজে যেতে হচ্ছে। বাজারে কম্বল-লেপের দোকানে ভিড় দেখা দিয়েছে। লেপ তোশকে কর্মচারীরা কাজের ভিড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সন্ধ্যা নামার আগেই গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িতে খড়কুটো, গাছের পাতা, পুরনো কাঠে আগুন জ্বালিয়ে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো: জহুরুল ইসলাম বলেন, ২২ হাজার ২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো কম্বলের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, উত্তর দিক থেকে হিমালয়ের হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত বুধবার ও গতকাল সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে প্রকৃতি। উত্তরীয় হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে ঠাণ্ডার প্রকোপ। কুয়াশার চাদরে পথঘাট ও প্রকৃতি ঢেকে থাকায় দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। এই পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষজন। শীতের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কাজে যেতে পারছেন না শ্রমজীবীরা। গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ¦ালিয়ে শীত নিবারণ করছে শীতকষ্টে ভোগা মানুষ। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক তুহিন জানান, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরো নিম্নগামী হবে।

%d bloggers like this: