ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১০, ২০২২, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ / ১২০
ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত

বগুড়া প্রতিনিধি:- বগুড়ায় শাহজাহান নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাবিবা মণ্ডল ১৯ বছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বলে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাছিমুল করিম হলি জানান।

যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি সভাপতি রশিদুল ইসলাম ওরফে রশিদ মৃধা, বিপ্লব মিয়া, রাসেল মিয়া, জুয়েল প্রামাণিক, সবুজ আকন্দ, উজ্জ্বল আকন্দ, আব্দুল মান্নান, পিলু খন্দকার, মোখলেছার রহমান মুকুল, আব্দুল হামিদ খোকা আকন্দ ও জাহেদুর রহমান।

যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় বিপ্লব, রাসেল ও জুয়েল আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলনা। তারা পলাতক রয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শেখেরকোলা ইউপির ভোটে রশিদুল ইসলাম ওরফে রশিদ মৃধা চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি দলীয় কর্মীদের নিয়ে তিনি মোটর সাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন এবং সাক্ষাত করেন।

পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেখেরকোলা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ এলাকার তমিজ উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান ও একই এলাকার আব্দুল মান্নানের সঙ্গে রশিদের দেখা হয়। তখন রশিদ তাকে ভোট না দেওয়ার অভিযোগ তুলে শাহজাহানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়।

রশিদের হুমকি পেয়ে তার সহযোগীরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শাহজাহানের উপর আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে তারা শাহজাহানের মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে শাহজাহানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাহান ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে মারা যান। ওইদিনই রশিদ মৃধাকে প্রধান আসামিকে ১১জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই মাহমুদূর রহমান।

তদন্ত শেষে বগুড়া সদর থানার তৎকালীন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ২০০৩ সালের ১১ জুন রশিদ মৃধাকে প্রধান আসামি করে ১১জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে।