ArabicBengaliEnglishHindi


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৪, ২০২২, ১:৩৪ অপরাহ্ণ / ৪৬

বগুড়া,প্রতিনিধি ঃ অভিজাত এলাকা ছিলো ধানমন্ডি। সেখানে তুলনামূলক অভিজাত লোকের বসবাস ছিলো। সেখানকার ৩২নং বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে বসবাস করতেন। ৩২নং বাড়িটিতে সব সময় লোকজনের সমাগম ও হাকডাক লেগেই থাকতো। দেশের নানা প্রান্ত থেকে নেতা কর্মিরা সেখানে ছুটে আসতেন, তাদের প্রিয় নেতার সাথে দেখা করতে। নানা রকম অভিযোগ অনুযোগ নির্ভয়ে বলতেন নেতার কাছে। কারো ব্যক্তিগত আবার কারো দলীয় অভিযোগ। কখনো বা সেই মজলিশে এসে হাজির হতো সকলের প্রিয় চোখের মনি শেখ রাসেল। রাসেল সবার সাথে চা পান করতো এবং নানা রকম কথাবার্তা শুনতো। নেতা কর্মিরা তাকে ভিশন আদর করতো। আদর পেয়ে সে খুব খুশি হতো। আর মনেমনে ভাবতো বড় হয়ে সেও বাবার মতো নামকরা নেতা হবে। দেশ ও দেশের জনগনেরর সেবা করবে। তখন আগস্ট মাস চলছিলো। প্রতিদিনের মতো কর্ম ব্যস্ততা শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই আচমকা টেলিফোন বেজে ওঠে। কে একজন ফোনে বলে স্যার আপনি তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। সেনাবাহিনীর কিছু বিপদগামি অফিসার ও সদস্য আপনাকে হত্যা করতে আপনার বাসার দিকে যাচ্ছে। সেই কথা শুনে মুজিব মনে মনে ভাবে কে আমাকে হত্যা করবে,আমার তো বিশ্বাস হয় না। এমন সময় বাসার দিকে ট্যাংক, কামান, সাঁজোয়া যান নিয়ে ওরা এগিয়ে আসে।কয়েকজন স্টেনগান হাতে নিয়ে বাসায় ঢুকে পড়ে।মুজিবকে উদ্দেশ্য করে গালাগালি করতে থাকে। এমন সময় মুজিব ঘর হতে বেরিয়ে বলতে থাকেন তোমরা থামো!কি হয়েছে! আমাকে খুলে বলো? কিন্তু কে শোনে কার কথা। একজন তো মেশিনগান থেকে গুলি করতে করতে এগিয়ে আসে। নিশানা স্পষ্ট। মুজিবকে হত্যা করা। গুলির আঘাতে মুজিব সিড়িতে লুটিয়ে পড়েন। তারপরও গুলি থামায় না। চলতে থাকে কিছুক্ষণ। মুজিবের পুরো দেহ ঝাঝড়া করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পাপিষ্ঠ সেনার দল। সেইদিন একে একে আরো হত্যা করে স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ জামাল,শেখ কামাল শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল,রোজী জামাল, ভাই শেখ আবু নাসের,ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত,ভাগনে শেখ

ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি। তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনা অফিসার কর্ণেল জামিল উদ্দীন সহ আরো অনেককে। মুহুর্তেই রক্তগঙ্গায় পরিনত করে ধানমন্ডির সেই ৩২নং বাড়িটি। আজও সেই বাড়ি পড়ে আছে। নেই শুধু জাতির পিতা সহ সেই দিনে হারানো চিরচেনা মুখ গুলো। যতোদিন পৃথিবী থাকবে, লাল সবুজের প্রিয় বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে, ততোদিন সকলের অন্তরে মিশে থাকবে ধানমন্ডির সেই ৩২নং বাড়িটি।।