ব্রিগেড”স্বাধীনতা বিরোধীদের ঠাঁই নাই এই বাংলায়” এর আত্ম প্রকাশ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২৩, ৮:০১ অপরাহ্ণ / ১০৬
ব্রিগেড”স্বাধীনতা বিরোধীদের ঠাঁই নাই এই বাংলায়” এর আত্ম প্রকাশ
স্টাফ রিপোর্টার জুয়েল রানা 
বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল পার করছে। একাত্তরের পরাজিতরা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের খুনীরা ঘাপটি মেরে বসে আছে সমাজের আনাচে কানাচে। গোপনে সংগঠিত হচ্ছে মানবতা বিরোধীদের বিচারের প্রতিশোধ নিতে। আমরা আশঙ্কা করছি সুযোগ পেলে ২০০১ এর নির্বাচন পরবর্তী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, হত্যার মত নৃশংসতা বহুগুন বাড়িয়ে দেবে।
আমরা অত্যড় দুঃখের সাথে বলতে চাই এই অপশক্তি এবং তাদের অনুসারীরা সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদের ক, খ, গ এবং ঘ সরাসরি লঙ্ঘন করে সাম্প্রদায়ীকতা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার বিশেষ ধর্ম পালন কারি কিংবা সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন করছে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হাত্যার পর দেশের সংবিধান, রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা বাঙালী জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। সংবিধানকে পাকিস্তানের আদলে সাম্প্রদায়ীক রূপ দেয়া হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মীয় দলগুলোকে অবাধ রাজনৈতিক করার সুযোগ দেয়া হয়। সামরিক শাসকদের আমলে এরা মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীও হয়। এভাবে দেশটা চলে যায় স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কবলে। এই বিষবাষ্প সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে যার প্রভাব আমাদের সমাজ জীবনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। মানুষের চালচলন আচার আচরণ ও পোষাকেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।
সংবিধানের উপর আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্মশত্রু জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগসহ ধর্মীয় পরিচয়ধারী কিংবা ভিন্ন নাম ও আদর্শ বহনকারী রাজনৈতিক দল আছে তারা সংবিধান অমান্য করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শুনতে অবাক লাগে দেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সহজ অর্থ রাষ্ট্রবিরোধী বা রাষ্ট্রদ্রোহী। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি আস্থা না থাকলে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে লালন না করলে বাংলাদেশে সব ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা সামাজিক সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে। সবোর্চ্চ আদালতের রায়ের আলোকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে বিচারের আওতায় আনতে হবে।ব্রিগেড ৭১ এর মূল দাবি হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক কোন শক্তিকে রাজনৈতিক অধিকার দেয়া যাবে না। বরং তাদের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করে তাদের নাগরিকত্ব খর্ব করা যায় কিনা দেখতে হবে। জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় সংগীত, জাতীয় শ্লোগান জয় বাংলা, জাতীয় পতাকা যারা মানে না তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্য নয়। আইনের বিধান করে এদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সংবিধানকে ১৯৭২ এর সম্পূর্ন অসাম্প্রদায়িক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যাতে কোন সাম্প্রদায়িক শক্তি বা স্বাধীনতা বিরোধীরা নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারে তার জন্য সারা দেশে জনমত গড়ে তুলতে হবে। স্পষ্ট কথা ৩০ লক্ষ শহীদ আর ৪ লক্ষ মা বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা পাকিস্তানী ভাবাদর্শের কারো কাছে আর যেতে দেওয়া যাবে না।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও তাদের দোসররা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ৭১ এর পরাজিত শত্রুদের রাজনীতি করার অধিকার দেয়। তাদের শক্তি বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক সমর্থনই শুধু নয় নিজেদের সঙ্গীও করে। যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ও আল মুজাহিদিকে মন্ত্রী করাই এর প্রমান ।
আগামী ০৩ মাসের মধ্যে আমাদের জাতীয় নির্বাচন। এই সময়টা জাতীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । জাতীয় স্বার্থে স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করার বিকল্প নাই। আমাদের এই দাবী সংবিধানের সাথে সম্পূর্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ ।
দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও আইনগতভাবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোন কওমী মাদ্রাসা এগুলো পালন করে না। এটা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান দেখায় না তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরী।আমাদের জাতীয় সংসদ অঙ্গন দেশের পবিত্রতম স্থান। কিন্তু এখানে কয়েকজন স্বাধীনতা বিরোধী ও একজন সামরিক শাসককে কবরস্থ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই ক্যান এর নকশার বাইরে এখানে কোন স্থাপনা থাকার কথা না। আমরা জোর দাবী করছি অবিলম্বে জাতীয় সংসদ ভবনের অঙ্গন থেকে এই সকল বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গের কবর অপসারন করা হোক। বাঙালী সংস্কৃতি হুমকির সম্মুখীন। একে রক্ষা করতে হলে ১৯৭১ এর চেতনায় একটি সাংস্কৃতিক জাগরন সৃষ্টি করতে হবে। এই লক্ষ্যে ব্রিগেড ৭১ কাজ করে যাবে। আমাদের উপরোল্লেখিত দাবীগুলো আমরা আওয়ামীলীগসহ এদেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর নিকট তুলে ধরবো যাতে এদেশে আর কখনও কোন সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে। আমরা বিশ্বাস করি আর কখনো ঐ সকল অপশক্তি সেই সুযোগ পাবে না। আমরা নবীন প্রবীন সদা জাগ্রত থাকবো ।