ArabicBengaliEnglishHindi

ডিজিটালে সুবিধার সঙ্গে অপরাধের ধারাও পাল্টেছে: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৩, ২০২২, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ / ২৭
ডিজিটালে সুবিধার সঙ্গে অপরাধের ধারাও পাল্টেছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:- প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে সকলের হাতে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন। সবাই ব্যবহার করতে পারছে। ইন্টারনেট সব থেকে বেশি আমাদের দেশে ব্যবহার হয়। সিম ব্যবহার হয় সব থেকে বেশি।”

দেশে ডিজিটালাইজেশনের ফলে নানা সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধের চিত্রও পাল্টে গেছে মন্তব্য করে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার মিরপুর সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এখন কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টা অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ যেমন বা ডিজিটাল সিস্টেম বা ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের যেমন অনেক সুযোগ করে দিয়েছে, পাশপাশি সেখানে কিন্তু সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা অপরাধের ধারাটাও কিন্তু পাল্টে গেছে।

“এজন্য জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ওই ট্রাডিশনাল সিকিউরিটি থ্রেটের পাশপাশি নন ট্রেডিশনাল সিকিউরিটি থ্রেটসমূহ প্রতিহত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জন্য। কারণ আমরা চাই একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমাদের দেশে থাকুক। সেভাবেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্স, ডিএসসিএসসিতে অনুষ্ঠিত ‘ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্স ২০২২’-এর ‘গ্রাজুয়েশন সেরিমনি’তে যোগ দিয়ে একথা বলেন সরকারপ্রধান।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই তারা এই ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে জানবে, ব্যবহার করবে। যেমন মোবাইল ফোন, একটা মাত্র ফোন ছিল, অ্যানালগ ছিল। আমি সেটা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। আজকে সকলের হাতে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন। সবাই ব্যবহার করতে পারছে। ইন্টারনেট সব থেকে বেশি আমাদের দেশে ব্যবহার হয়। সিম ব্যবহার হয় সব থেকে বেশি।”

দেশে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে এবং অনেকেই একাধিক মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহার করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনসংখ্যা থেকে সিমের সংখ্যাই এখন ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। সবাই ব্যবহার করতে শুরু করেছে।”

দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “শুধু আমাদের বাহিনীগুলো না। আমরা সারা বাংলাদেশেই আমাদের তরুণ সমাজ তাদেরকেও আমরা সেই স্মার্ট করে গড়েতে চাই। কারন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যখন আসবে, সেখানে কিন্তু আমাদের সেই ডিজিটাল সিস্টেম সম্পর্কে আরও বেশি জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কিন্তু কাজ করছি।”

বিভিন্ন নতুন নতুন ডিজিটাল ডিভাইসের আবিষ্কার হচ্ছে এবং সেটা ব্যবহার করার সময় উপযোগী ট্রেনিং যেন দেশের সবাই নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

“কেউ যেন আমরা পিছিয়ে না থাকি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের লক্ষ্য হচ্ছে- আমার দেশের জনগোষ্ঠী…যারা ইয়াং জেনারেশন তারা ডিজিটাল ডিভাইস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবে। আমাদের ইকোনমি, সেটাও ই-ইকোনমিতে আমরা নিয়ে আসতে চাই। ই-গভর্নেন্স আমরা তৈরি করতে চাই। সেই সাথে সাথে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেও যেন আমরা এভাবে এগিয়ে যেতে পারি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা সর্বক্ষেত্রে আমরা এই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেই আমরা এগিয়ে যাব। এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

১৯৯৬ সালে সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

“সে সময় ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দেই, ‘মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’, ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং’, ‘আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছি এবং আমাদের সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীতে নারীদেরও স্থান করে দিয়েছি।

“জাতির পিতা প্রদন্ত সেই ১৯৭৪ সালের নীতিমালাকে সামনে রেখেই আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি এবং তা আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।”

২০১৬ সালে ‘বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “কারণ জাতিসংঘে আমাদের যারা কাজ করে সবাই আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ বাহিনী সদস্যরা; সেখানে বিশ্বে শান্তিরক্ষার জন্য অকাতরে যারা জীবন দিয়েছেন তাদেরকে আমি আজকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এটুকু বলবো যে, যথাযথ ট্রেনিং এবং যথাযথ সরঞ্জামাদি, যুদ্ধ সরঞ্জামাদি যাতে তাদের থাকে সেই ব্যবস্থাটাও আমরা হাতে নেই।”

“সেই সাথে সাথে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদের বিরুদ্ধেও আমাদের পদক্ষপ আমরা গ্রহণ করি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছি কারও সঙ্গে যুদ্ধ করবার জন্য নয়। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের যে নীতিমালা দিয়েছেন সেটা হলো- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’- আমরা কিন্তু সেই নীতিমালা মেনেই প্রত্যেকটা দেশের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক রেখেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। ২০০৮ থেকে ২০২২ আমরা কিন্তু প্রতিটি দেশের সাথে আমাদের সুস্পর্ক রয়েছে।”

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, “মানবিক কারণে তাদেরকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি সত্য, কিন্তু মিয়ানমারের সাথেও আমরা কোনো ঝগড়া বিবাদে যাইনি। বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

‘সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)কোর্স-২০২২’ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই কোর্সে ২১টি বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে আগত ৪৬ জনসহ মোট ২৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং তাদের পরিবার-পরিজনকে জানাই আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন।”

%d bloggers like this: