ArabicBengaliEnglishHindi

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আর্জেন্টিনার বাংলাদেশি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের খবর


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৯, ২০২২, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ / ২৬
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আর্জেন্টিনার বাংলাদেশি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:-   টান টান উত্তেজনায় ভরা ছিল কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। রোববার (১৮ ডিসেম্বর) লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্সের তুমুল লড়াই শেষে জয়ী হয় মেসির দল। আর্জেন্টাইনদের বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নেওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা বাংলাদেশি সমর্থকরাও। তাদের বাধভাঙা উল্লাস যেন থামছেই না। আর বাংলাদেশি সমর্থকদের সেই উল্লাসের খবর উঠে এলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও।

বুয়েন্স আয়ার্স টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ে বহু দূরের একটি দেশ, বাংলাদেশের সমর্থকরা মেসি মেসি বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। জয়ের আনন্দে রাস্তায় নেমে নাচছিলেন তারা। হয়েছে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাও। কারও চোখে জলও চলে আসে মেসি আর আর্জেন্টিনার জয়ের খবরে। এ যেন অন্যরকম এক দৃশ্য।

পুলিশ জানায়, ঠাণ্ডা আবাহাওয়ার মধ্যে রাজধানী ঢাকার প্রধান পয়েন্টগুলোতে, রাস্তার পাশে বড় স্ক্রিনে খেলা উপভোগ করেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। বাংলাদেশি সমর্থকদের অনেকেই সাদা-নীলাভ আকাশি রঙের জার্সি পড়েন এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে আনন্দ মিছিল করেন তারা। অনেকের গায়ে মেসির ১০ নম্বর জার্সিও দেখা গেছে।

মেসির ভক্ত ১৮ বছর বয়সী নাফিউন রহমান জিয়ান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এএফপিকে বলেন, ‘আমি জানি না কেন কাঁদছি, তবে আমি তার জন্য কাঁদছি।’ তিনি বলেন, ‘বহু বছর প্রতীক্ষার পর আমার জীবনের ভালোবাসার মানুষটি জয় পেয়েছে, যেটি তার প্রাপ্য ছিল, ছোট্ট জাদুকর, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি পেয়েছেন।’

ভিডিও       

 

ওই গণমাধ্যমটিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ এবং এর জনসংখ্যা ১৭ কোটি। ক্রিকেট পাগল মানুষদের জাতীয় দক্ষ ক্রিকেট টিমও রয়েছে।

তবে ফুটবলে এখনও জায়গা করতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতি চার বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনার শেষ নেই। দেশটির মানুষ ফুটবল খেলার সমর্থনে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি পক্ষ আর্জেন্টিনা এবং আরেকটি পক্ষ ব্রাজিল।

রোববার সবচেয়ে বেশি সমর্থক শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হয়েছিল। অনেকে গালে আর্জেন্টিনার পতাকাও আঁকেন।

মেসির প্রথম পেনাল্টির গোলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। ডি মারিয়া আরেকটি গোল করার পর চোখ মুছতে মুছতে ইমন গাজী বলেন, আমি কতটা খুশি তা প্রকাশ করতে পারবো না।

ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে ২-২ তে চলে যাওয়ায় আর্জেন্টাইন সমর্থকরা অনেকটা নীরব হয়ে যান।

৪০ বছর বয়সী আব্দুস সবুর নামে এক মোটরবাইক চালক, ব্রাজিলের সাপোর্টার ছিলেন। কিন্তু ফাইনালে মেসির জন্যই তিনি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, এমবাপের দুই গোল শোধ করার পরে তার বুক কাঁপতে থাকে। অবশেষে মেসির দল জয়ী হওয়ায় খুশি তিনি।

তিনি বলেন, এমবাপের বয়স মাত্র ২৩, তিনি আরও তিনটি বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন। কিন্তু এবার মেসিরই পাওয়া উচিত।

আর্জেন্টিনার আরও এক বাংলাদেশি সমর্থক বলেন, মেসি প্রমাণ করেছেন তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। কিংবদন্তী দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দোর বিতর্ক এখন শেষ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অনেক গ্রামীণ বাড়িঘর সাজানো হয়েছে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকার রঙে। শুধু তাই নয় বাড়ির ছাদে পতাকা টাঙাতে গিয়ে মারা গেছেন ৭ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষেও অন্তত তিনজন মারা গেছেন বাংলাদেশে।

সূত্র: বুয়েন্স আয়ার্স টাইমস, এএফপি, এনডিটিভি

%d bloggers like this: