স্ত্রীর মৃত্যুর একদিন পর মারা গেলেন খ্যাতিমান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান…


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৩, ১১:২৮ অপরাহ্ণ / ১০৭
স্ত্রীর মৃত্যুর একদিন পর মারা গেলেন খ্যাতিমান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান…

স্টাপ রিপোর্টার মো মামুন মোল্যা

কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ খ্যাত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।

দুপুরে তিনি বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই তার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে এলে বাসার পাশের ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তানভীর সন্ধ্যা ৭টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ বলেছেন, সোহানুর রহমান সোহান হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।সোহানুর রহমান সোহানের মৃত্যুর একদিন আগে ব্রেন স্ট্রোকে তার স্ত্রী মারা যান। তিন কন্যা সন্তানের জনক সোহান।
বহু সফল চলচ্চিত্রের নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানে পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’। এ নির্মাতার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আসেন সালমান শাহ, মৌসুমী, পপি ও ইরিন জামান। শাকিব খানের মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমার পরিচালকও ছিলেন তিনি।
সোহানুর রহমান সোহান ২৫টি ছবি নির্মাণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বাস অবিশ্বাস (১৯৮৮), বেনাম বাদশা (১৯৯২), কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩), আখেরি রাস্তা (১৯৯৪), বিদ্রোহী কন্যা (১৯৯৬), স্বজন (১৯৯৬), আমার ঘর আমার বেহেশত (১৯৯৭), আমার দেশ আমার প্রেম (১৯৯৮), মা যখন বিচারক (১৯৯৮), অনন্ত ভালবাসা (১৯৯৯), কিলার (২০০০), সত্যের বিজয় (২০০৩), স্বামী ছিনতাই (২০০৪), বলো না ভালোবাসি (২০০৫), বৃষ্টি ভেজা আকাশ (২০০৭), কথা দাও সাথী হবে (২০০৭), আমার জান আমার প্রাণ (২০০৮), পরাণ যায় জ্বলিয়া রে (২০১০), কোটি টাকার প্রেম (২০১১), দ্যা স্পিড (২০১২), সে আমার মন কেড়েছে (২০১২), এক মন এক প্রাণ (২০১২), লোভে পাপ পাপে মৃত্যু (২০১৪),ভাল লাগার চেয়েও একটু বেশি এবং জেদী (২০২২)।
সোহান ১৯৭৭ সালে পরিচালক শিবলি সাদিকের সহকারী হিসেবে তার চলচ্চিত্র কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি শহীদুল হক খানের কলমিলতা (১৯৮১), এজে মিন্টুর অশান্তি (১৯৮৬) ও শিবলি সাদিকের ভেজা চোখ (১৯৮৮) চলচ্চিত্রে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। একক ও প্রধান পরিচালক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র বিশ্বাস অবিশ্বাস (১৯৮৮)। পরিচালনায় তার প্রথম সাফল্য আসে কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩) ছবিটি দিয়ে। এটি ছিল হিন্দি কেয়ামত সে কেয়ামত থক (১৯৮৮) এর পুনঃনির্মাণ। এছাড়া কিছুদিন তিনি ইউনিভার্সেল পারফর্মিং আর্টস ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হিসেবেও কাজ করেন।