সাবধানে যাবি,তাড়াতাড়ি আসবি,মেয়ের সাথে বাবার শেষ কথা।


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩, ২০২২, ৩:৩১ অপরাহ্ণ / ৩২৮
সাবধানে যাবি,তাড়াতাড়ি আসবি,মেয়ের সাথে বাবার শেষ কথা।
মাজহারুল ইসলাম  পঞ্চগড় প্রতিনিধ ঃ- শারদীয় দুর্গৌৎসবের মহা অষ্টমী দিনটি পেরিয়ে গেলেও করতোয়া পাড়ের নৌকাডুবির ট্রেজেডিতে পঞ্চগড় জেলায় চলছে শোক আর নীরব বিহ্বলতা। পূজো আয়োজন কমিটির দেয়া পূর্বের নির্দেশনা মতে পূজোমন্ডবগুলোতে পালিত হচ্ছে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থদের জন্যে প্রার্থনা ও অর্থ সংগ্রহ অভিযান।বিগত বছরগুলোর মত আর ঢাক ঢোল, কাসার আওয়াজ, অতিরিক্ত সাজ সজ্জা, ও  লাইটিং চোখে পড়েনা তেমন ।
অড়াম্বরভাবে মন্ডবগুলোতে  পূজোর আসল কাজগুলো সারছেন সবাই।পূজো মন্ডবগুলোতে ঘুরে এসে দেখা গেছে সবের মনে বইছে যেন শোক বিহ্বল নীরবতা।করোতোয়া নৌকা ডুবির ঘটনায় কয়েকটি পরিবারে স্বজন হারার শোক ও দুঃসহ যন্ত্রনার কথা বলতে গেলে এই উক্তিটি যথার্থ হয়।
    “হারানো ব্যাথা সেই বুঝে, হারিয়ে গেছে যার”
সাবধানে যাবি,তাড়াতাড়ি আসবি,মেয়ের সাথে বাবার শেষ কথা ঃ-বোদা উপজেলার দ্বিপক চন্দ্র রায় ও স্ত্রী ছন্দা রাণী রায়, তাদের সংসারে মেধাবী দুই মেয়ে ভুমিকা (১৫) বৃষ্টি(৮) উপজেলার ধনিপাড়া গাইঘাটা বালিকা  উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক দ্বিপক।ঘটনার দিন করতোয়া নৌকা ডুবিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।দ্বিতীয় দিন সোমবার পাওয়া যায় বৃষ্টির লাশ তিনদিন মঙ্গলবারে  পাওয়া যায় ভুমিকার লাশ।ভুমিকা পঞ্চগড় জেলার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী ছিল।দুই  মেয়ের মৃত্যুতে মুহ্যবান স্বামী ও স্ত্রী।বাড়িতে বইছে এখনো শোকের ছায়া।
                   ছবি ভুমিকা ও ছন্দা।
দেড় মাসে ভেসে গেল নব বধু বন্যার মেহেদীর রং- সেদিন করতোয়া নদীতে নববধু বন্যা ও স্বামী হিমালয় বদ্বেশরী মন্দিরে মহালয়ায় যাচ্ছিল। নৌকা উল্টে দিয়ে
নৌকাডুবিতে স্ত্রী বন্যা নদীর তীরে এসে প্রানে বেঁচে গেলেও স্বামী হিমালয় চিরতরে চলে যান ওপারে। হিমালয়ের বাড়ী বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ধনি পাড়া গ্রামের বিরেন্দ্রনাথ – সারদা রাণীর একমাত্র মাষ্টার্সের পরীক্ষার্থী হিমালয়। স্বামী হিমালয়কে হারিয়ে  কান্নায় চোখ ভাসাচ্ছেন নববধু বন্যা।