ArabicBengaliEnglishHindi

সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতের সাহায্য কেন দরকার, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের


প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৯, ২০২২, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ / ৫৪
সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতের সাহায্য কেন দরকার, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের
নিজস্ব প্রতিবেদক ,ঢাকাঃ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতের সাহায্য কেন দরকার, এর ব্যাখ্যা জানতে চায় বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতের সাহায্য কেন দাবি করেছেন, এর ব্যাখ্যা সরকারের কাছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে, এমনকি ভারত সরকারের কাছেও জানতে চাই।’

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সেটি করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মিছিল–সমাবেশে মন্ত্রীরা বড় বড় বক্তৃতা করেছেন, হুমকি দিয়েছেন। সন্ত্রাসী ভাষায় কথা বলেছেন। এতই যদি হুমকি দেন, তাহলে আপনাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতের সাহায্য দাবি করেন কেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, সে কথার অর্থ কী? তাতে কি এটা দাঁড়ায় এই সরকার টিকে আছে ভারতের আনুকূল্যে। এই কথার জবাব তো এ দেশের মানুষ জানতেই চাইবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে আজ সকালে পৃথক এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ কে আব্দুল মোমেন অনেক সময় নিজের অজান্তেই সত্য কথা বলে বসেন। ‘বেহেশতে’ থেকে তো আর মিথ্যা কথা বলা যায় না। তাই সত্যটাই বলে দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এর আগের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন পুঁজিবাজার যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, লুট হয়ে যাচ্ছে, তাদের ধরা যাচ্ছে না। কারণ, তাদের হাত অনেক লম্বা। তখন যে প্রতিবেদন বেরিয়েছিল, তার মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রীও ছিলেন। এখন তিনি অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ এই সরকার দুর্নীতিবাজদের সরকার। এই সরকার চোর ও ডাকাতের সরকার। এরা অবৈধ। এদের বৈধতা নাই। এরা রাতের অন্ধকারে নির্বাচন করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে।’

উত্তরায় গার্ডার পড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় কেবল চালক ও নিরাপত্তাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এর জবাব তো প্রথমে দিতে হবে সেতুমন্ত্রীকে। জবাব দিতে হবে প্রকল্পের পরিচালককে। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নেত্র নিউজে প্রকাশিত আয়নাঘরের প্রতিবেদন কতটুকু সত্যি এবং সেখানে কী আছে, তা জনগণ জানতে চায় বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করেছেন। তাঁর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। লাকসামের পারভেজকে গুম করেছেন। অনেক ছাত্রনেতাকে গুম করা হয়েছে। তাদের মায়েরা এখনো কাঁদে, চেয়ে থাকে তাদের ছেলেরা কখন ফিরবে। এই সরকার সেই মায়ের বুক খালি করেছে। এই সরকারকে আর কোনো সময় দেওয়া যাবে না।

আওয়ামী লীগ সরকার এখন লুটপাট–ডাকাতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের পেটে হাত দিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আজকে সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। এমন একটা পণ্য নেই, যার দাম দুই থেকে তিন গুণ বাড়েনি। কারণটা কী? প্রধানমন্ত্রী বলেন বিশ্ব অর্থনীতির সংকট। বিশ্ব অর্থনীতির সংকট তো আছে, আগে থেকে কেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেননি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন, পেছনে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, এই যুক্তি দেখানো হলেও যখন দাম কমতে শুরু করেছে, তখন জ্বালানির দাম না কমানোয় সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, গুমের কথা যখন বলা হয়েছে, তখন তাদের (সরকারের) মাথা ঘুরে গেছে। জাতিসংঘ থেকে হিউম্যান রাইটসের হাইকমিশনার এসেছেন। তিনি যাওয়ার আগে একটা বিবৃতি দিয়েছেন। সেই বিবৃতিতে তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, এখানে র‍্যাবের হাতে যে গুম হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, তার সব প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বিচার করা দরকার। অবশ্যই স্বাধীন তদন্তের আওতায় নিয়ে গুমের বিষয়টি নিয়ে আসতে হবে।

আলোচনা সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল বক্তব্য দেন। সভার সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান। সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।