ArabicBengaliEnglishHindi

রংপুরে বেড়েছে চাল-আটার দাম, কমেছে ডিম-মুরগি


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৫, ২০২২, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ / ১৯
রংপুরে বেড়েছে চাল-আটার দাম, কমেছে ডিম-মুরগি

নিজস্ব প্রতিবেদক  রংপুর:- রংপুরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চাল ও আটার দাম। এছাড়া কিছু সবজির দাম কমেছে। পোলট্রি মুরগির দাম কিছুটা কমলেও আলু, তেল, ডাল ও মাছ-মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে স্বর্ণা (মোটা) চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়ে স্বর্ণা ৫৫-৫৮ টাকা, বিআর-২৮ ৬০-৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৬৩-৬৫ টাকা, মিনিকেট ২-৩ টাকা বেড়ে ৭৫-৭৮ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারের চাল বিক্রেতা মোসলেম উদ্দিন বলেন, নতুন ধানের চাল এখনো বাজারে সেভাবে আসেনি। এখন মৌসুমের শেষ সময়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রতি কেজি টমেটো আগের মতোই ১৫০-১৬০ টাকা, গাজর ১৮০-২০০ টাকা, করলা ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, চিকন বেগুন ২০-২৫ টাকা, গোল বেগুন ৪৫-৫০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লেবু প্রতিহালি ৮-১০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ৪৫০-৫০০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ২৫-৩০ টাকা, ধনেপাতা ৪০-৫০ টাকা, কাঁচকলা হালি ২৫-৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৫৫-৬০ টাকা, বরবটি ৪০-৪৫ টাকা, পটল পাঁচ টাকা বেড়ে ২৫-৩০ টাকা, প্রতিকেজি মিষ্টিকুমড়া ৩৫-৪০ টাকা, চালকুমড়া (আকারভেদে) ৩০-৩৫ টাকা, ঝিঙে ৪০-৫০ টাকা, কাঁকরোল ৪৫-৫০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, মুলার দাম কমে ১৫-২০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা এবং ফুলকপির দাম কমে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত সপ্তাহের দরেই আদা ১০০-১২০ টাকা ও রসুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবধরনের শাকের আঁটি পাওয়া যাচ্ছে ১০-১৫ টাকায়।

খুচরা বাজারে কার্ডিনাল আলু গত সপ্তাহের মতো ২৩-২৫ টাকা, শিল আলু ৪৫-৪৮ টাকা, ঝাউ আলু ৪৫ টাকা এবং সাদা আলু ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এ সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ পাঁচ টাকা কমে ৪৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিটি বাজারের সবজি ক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করলেও দাম আশানুরূপ কমেনি। সবজির দাম কমলেও অন্যদিকে বাড়ছে চালের দাম। একদিকে কমলেও অন্যদিকে বাড়ে। এ অবস্থায় বেকায়দায় পড়েছে আমাদের মতো ক্রেতারা।

মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। এ কারণে দাম কিছুটা কমেছে। এছাড়া মৌসুমের যেসব সবজি উৎপাদন কমে গেছে তার দাম কমার সসম্ভাবনা নেই।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে খোলা চিনি ১১০-১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্যাকেট আটা ৭০ টাকা ও খোলা আটা ৬৫ টাকা, ছোলা বুট ৯০-৯৫ টাকা এবং ময়দা ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আগের মতোই মসুর ডাল (মাঝারি) ১১০-১২০ টাকা, চিকন ১৩০-১৪০ টাকা, মুগডাল ১৪০-১৫০ টাকা, বুটডাল ৭৫-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫-৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পোলট্রি মুরগির ডিমের হালি ৪০-৪২ থেকে কমে ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস ৬২০-৬৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০-৯০০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমে ১৫৫-১৬০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ১০ টাকা দাম কমে ২৭৫-২৮০ টাকা, দেশি মুরগি আগের মতোই ৪১০-৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুলাটোল আমতলা বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে দাম কমলেও বিক্রি সেভাবে বাড়েনি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৭৮ টাকা, দুই লিটার ৩৫৬ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিক মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুইমাছ ২৫০-৩০০ টাকা, মৃগেল ২২০-২৫০ টাকা, কার্প ২০০-২২০ টাকা, পাঙাস ১৫০-১৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৬০, কাতল ৪০০-৪৫০ টাকা, বাটা ১৬০-১৮০ টাকা, শিং ৩০০-৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-২৫০ টাকা এবং গচি মাছ ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

%d bloggers like this: