রংপুরে কালো তালিকাভুক্ত দৈনিক বায়ান্নর আলো পত্রিকার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল ও মামলা


প্রকাশের সময় : জুন ২২, ২০২৩, ৩:২১ পূর্বাহ্ণ / ১০৬৮
রংপুরে কালো তালিকাভুক্ত দৈনিক বায়ান্নর আলো পত্রিকার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল ও মামলা

রংপুর ব্যুরো:
রংপুরে তথ্যমন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত মৌলবাদী পত্রিকা, দৈনিক বায়ান্নর আলোর নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে চরম হয়রানির অভিযোগ, পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জামাত নেতা, ফারুখ আজম সোবহান ওরফে আব্দুস সোবহান এবং পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাজিদুল ইসলাম লাল-এর বিরুদ্ধে। ২২ জুন ২০২৩ রংপুর রিপোটার্স ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে, রংপুর মহানগরীর কলেজ রোড মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের পক্ষে তার ছেলে, আহমেদ আল হাইসাম বিন রহমান সাগর লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ সাবেক ৬৭-৬৯ সালের বৃহত্তর রংপুরের আওয়ামী ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আপনাদেরকে গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছি কুড়িগ্রাম ও মোগলহাটে। সিনিয়র সহকারি জজ আদালত সদর রংপুরের অন্য ২৮/৯৭ মামলার রায় মোতাবেক ডিপি খতিয়ান-২২৭ এর মালিক আজিজার রহমনের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশ ১। আব্দুল হাকিম, ২। খলিলুর রহমান, ৩। এনামুল হকের নিকট থেকে ১১/০৩/১৯৯৭ সালে ২৬১৫নং দলিলমুলে আমি সাবেক (২৩১+২৩২) দাগে, হাল ২৫৯ দাগে ৩২ শতক জমি ক্রয় করি এবং ডিজিটাল খারিজ করে খাজনাও পরিশোধ করি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ২৩/১২/২০২০ তারিখের অনুমোদন সাপেক্ষে হাল দাগ ২৫৯ ‘পাহাড়ী এলপিজি ফিলিং স্টেশন’ নামে গ্যাস পাম্প স্থাপনের অনুমোদন দেন এবং আমি সেখানে তখন থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছি। এর মধ্যে জামায়াত ঘোষিত মৌলবাদীর মুখপাত্র হিসাবে পরিচিত দৈনিক বায়ান্নের আলোর পত্রিকার প্রকাশক ফারুখ আজম সোবহান ওরফে আব্দুস সোবহান এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাজিদুল ইসলাম লাল অভিনব কায়দায় আজিজার নামীয় ডি.পি খতিয়ান ২২৭ কে জাল করিয়া আমিনুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ ও আনোয়ারুল হকের নামে মিথ্যা ডি.পি খতিয়ান সাবরেজিস্টার রংপুর সদরের কাছে তা উপস্থাপন করে ৩০/০৬/২০১৬ তারিখে ১০৫৭৯নং দলিল দৈনিক বায়ান্নের আলোর প্রকাশক ফারুখ আজম সোবহান ওরফে আব্দুস সোবহান তার নিজ নামে তৈরি করে এবং আমার ৩২ শতক জমির পূর্ব পার্শ্বে গোডাউন ঘরে দৈনিক বায়ান্নের আলোর ছাপাখানার নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল করার অপচেষ্টা করে। বিভিন্নভাবে বাংলাদেশ সরকারের উপর-মহলের কন্ঠ ও মন্ত্রী মহোদয়ের কন্ঠ নকল করে ফারুখ আজম সোবহান ওরফে আব্দুস সোবহান নিজেকে সরকারের একান্ত আপনজন পরিচয় দিয়ে বেআইনি সুবিধা আদায় করছে। বায়ান্নর আলো পত্রিকাকে অপব্যবহার করে জমি দখল করে আসছে। আমি একজন প্রবীণ ছাত্রলীগ সভাপতি, ৬ দফা আন্দোলনের জাতির পিতার সঙ্গে রাজনীতি করা লোক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হত্যা, গুম খুনের চেষ্টায় লিপ্ত আছে। যার জিআর নাম্বার-৫৪/২৩ থানা হাজিরহাট, আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। উল্লেখ্য, তার প্রকাশিত অনলাইন মিডিয়া দৈনিক বায়ান্নর আলো এবং বিভিন্ন পত্রিকায় জমির দখলের স্বত্বের রায় পাওয়ার কথা প্রচার করে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। অথচ কত নম্বার মামলায় তিনি রায় পেয়েছেন তা পত্রিকায় উল্লেখ করেননি। ১৯৬৭ থেকে ২০২৩ সালের অদ্যকার দিন পর্যন্ত ফারুক আজম সোবহান ছাড়া আমার বিরুদ্ধে কোন দিন কোন থানায় জিডি বা মামলা নেই। আমার প্রিয় নেতা অভিভাবক মরহুম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদাত বরণ করার পর, এদেশের রাজাকার দেশ বিরোধীগণ থেমে নেই। আপনারা জানেন দৈনিক বায়ান্নোর আলো পত্রিকার ডিএফপির অনুমোদন নেই ও কালো পত্রিকা হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত আছে। দৈনিক বায়ান্নোর আলো পত্রিকা ঘুষ, দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে পাশাপাশি নিয়োগ বাণিজ্য, আদম ব্যবসা এবং অনেককে চাকুরী দেওয়ার নাম করে পত্রিকার প্রকাশক নিজ নামীয় চেক বিভিন্ন জনকে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ প্রতারণায় ব্যস্ত এবং এই বিষয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করলে দৈনিক বায়ান্নর আলো পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করে আসছে। ফারুখ আজম সোবহান ওরফে আব্দুস সোবহান, সহজ সরল মানুষদের টার্গেট করে ভুয়া দলিল তৈরি করে আদালতে সিভিল মামলা করে এবং রায় পাওয়ার আগে
পত্রিকার মাধ্যমে বেআইনীভাবে জমি দখল করে পত্রিকার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিচ্ছে। আমি আজ-জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আপনাদের নিকট জোর আবেদন, সমুদয় ঘটনা অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করছি। আপনাদের প্রচার ও লেখনীর মাধ্যমে। সেই সাথে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।