বাবা মা হারা ৪ বছরের শিশুকে কোলে তুলে নিলেন রেলপথমন্ত্রীর স্ত্রী এ্যাডঃ শাম্মী আকতার


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২২, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ / ২০৫
বাবা মা হারা ৪ বছরের শিশুকে কোলে তুলে নিলেন রেলপথমন্ত্রীর স্ত্রী এ্যাডঃ শাম্মী আকতার

মাজহারুল ইসলাম পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ে সর্বত্রে অনাড়ম্বর ভাবে দুর্গোৎসের মন্ডব গুলোতে দূর্গাপুজার উৎসব পালিত হলেও করতোয়ায় নৌকাডুবি নিহত পরিবারদের নেই কোন দুর্গোৎসব। সামনে দশমী দূর্গাপুজা কিন্তু বাড়ীর কারো মন ভাল নেই।বোদা মাড়েয়া বটতলী এলাকার ষাটো র্ধননী বালা হারিয়েছেন উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলে জগদীশ চন্দ্র ও ভাতিজা সেন্টু চন্দ্রকে।চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন,মহালয়ার পুজা দিতে গিয়ে ছেলেটা হারিয়ে গেল করতোয়ার জলে।জগদীশের অবুঝ দুই শিশু – সন্বীপ ও প্রিয়াঙ্কার মুখের দিকে তাকাতে পারিনা।

দ্বীপক চন্ত্র রায়ের দু মেয়ে ভুমিকা(১৫) ও বৃষ্টি এরাও সেদিন করতোয়া নৌকা ডুবিতে নিহত হন
দ্বীপক চন্ত্র রায়ের দু মেয়ে ভুমিকা(১৫) ও বৃষ্টি এরাও সেদিন      করতোয়া নৌকা ডুবিতে নিহত হন

এদিকে নৌকা ডুবিতে হারিয়েছে বলরামপুর কলেজের শিক্ষক রমেশ চন্দ্রের দুই সন্তান।জ্যোতিময় আর উষশী তারা দু ভাই বোন সেদিন নৌকাডুবিতে হারিয়েছে।রমেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী মিনতি রানী দু সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায়।তারা বলছেন, আমাদের বংশে আর কেউ বাবা বলার কেই রইলনা আমরা এখন কাকে নিয়ে বাঁচব।
এদিকে ইসিতা ও তর্পন মাড়েয়া বামুন হাট ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের কৈলাশ চন্দ্র রায় এবং সুচিত্রা রানীর দুই সন্তান। তারা দুইজনই মাড়েয়া উচ্চ বিদ্যলয়ের শিক্ষার্থী। বোন ঈশিতা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তর্পণ পড়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখা পড়া করে মাড়েয়া বামন হাট হাই স্কুলে।দুই ভাই বোন মিলে যাচ্ছিল বদেশ্বরী মন্দিরে পূজা দেখতে। নৌকায় পানিতে উঠলে শুরু হয় যাত্রীদের হাহাকার। নৌকার সকল যাত্রী পানিতে ডুবে যেতে থাকে। তার সাথে ডুবতে থাকে ভাই-বোন ঈশিতা কলি রায় এবং তর্পণ রায়। পানিতে ডুবতে থাকার সময় ছোট ভাই টেনে তোলে বড় বোনকে।

বোন ইশিকাকে নদী থেকে টেনে তুললের ছোট ভাই তর্পন 
বোন ইশিকাকে নদী থেকে টেনে তুললের ছোট ভাই তর্পন

বড়বোন ঈশিতা জানায়, সাঁতার জানতাম । কিন্তু ওড়নায় আমার দুই পা আটকে যায়। আমি খালি ডুবছি আর উঠছি। আর সবাইকে ডাকছি। এমন সময় আমার ছোট ভাই তর্পণ আমার হাত ধরে টানতে থাকে। আমাকে একটি নৌকার কাছে নিয়ে আসে। পরে নৌকাটিতে উঠি। এরপর আর কিছু বলতে পারিনা। বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর জ্ঞান ফেরে। এই স্মৃতি কোনদিন ভুলতে পারবোনা।
ছোট ভাই তর্পণ জানায়, নৌকাটা ডুবতে থাকলে আমি সাঁতার কাটতে থাকি। পাশে আমার বোন হাবুডুবু খাচ্ছে। আর চিৎকার করে লোকজন ডাকছে। আমি তখন বোনের একটি হাত ধরে ফেলি। এরপর তাকে টানতে থাকি। একটি নৌকা এগিয়ে আসে। আমরা নৌকায় উঠে পড়ি।এভাবে আমরা প্রাণে বেঁচে যাই।
বোন ইশিকাকে নদী থেকে টেনে তুললের ছোট ভাই তর্পন 
বাবা মাকে হারিয়ে একা সেই ছোট্ট দীপুঃ-সেদিন করতোয়ায় বাবা মাকে হারিয়ে চার বছরের সেই দীপুকে ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়ে কোলে তুললেন রেলপথমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী এ্যাডভোকেট শাম্মী আকতার।দীপুর বাবাকে আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।গত শনিবার দীপুর গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দীপুর করুন কাহিনী শুনে দীপুকে কোলে নিয়ে বলেন,ছোট্ট চার বছরের শিশু দীপুকে কোলে নিয়ে বুকটা আমার শান্ত হলো।আমার আরো চার সন্তান আছে আজ থেকে আরো একজন যোগ হলো।সকলেই দোয়া করবেন,দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, সবার সহযোগিতা চাই আমি তার পাশে থাকব।