প্রেসক্লাবের সভাপতির চাঁদাবাজি ও অপকর্মে ৭ সাংবাদিকের পদত্যাগ 


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৩, ১০:২৪ অপরাহ্ণ / ৬৫
 প্রেসক্লাবের সভাপতির চাঁদাবাজি ও অপকর্মে ৭ সাংবাদিকের পদত্যাগ 
বিল্লাল হোসেন সাজু স্টাফ রিপোর্টারঃ
কাশিমপুরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি, স্বৈরাচারীতা এবং সাংবাদিকদের অবমাননা এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে অপরাধীদের সাথে আতাত করে নিজ ক্লাবের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে কাশিমপুর প্রেসক্লাবের বর্তমান নির্বাচিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক  এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সহ ৭ জন সাংবাদিক এক যোগে পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কাশিমপুর প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক সহকর্মীদের সামনে সোস্যাল মিডিয়ায় ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন কাশিমপুর প্রেসক্লাবের সাবেক তিনবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান সরকার । এর পরে সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদকের কাছে একটি লিখিত পত্রে একযোগে ৭ সদস্য স্বাক্ষরিত এই পদত্যাগপত্র জমা দেয়া হয়।
কাশিমপুর প্রেসক্লাবের পর পর তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক হাসান সরকার বলেন, কাশিমপুর প্রেসক্লাবের  কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন ক্রমান্বয়ে একাধিকবার  গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন এবং তিনি বড় ছোট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এবং ডাক্তার ফার্মেসি ও ইলেকট্রনিক্স দোকানে প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে। যা বর্তমানে ফেসবুকে ভাইরাল।  এতে কাশিমপুর প্রেসক্লাবের সুনাম ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে এবং কাশিমপুরবাসী সাংবাদিকদের প্রতি প্রতিনিয়ত অসন্তোষ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করার চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বর্তমান সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন তার নিজের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছে। তাই স্বেচ্ছায় আমাদের হাতে গড়া সংগঠন থেকে সরে আসতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিভিন্ন মহলে আমরা এই বিষয়টি ইতমধ্যে অবগত করেছি।
এমন দুর্নীতি আমরা মেনে নিতে পারছি না বিধায় কাশিমপুর প্রেসক্লাব থেকে পদত্যাগ করেছি।
এ বিষয়ে কাশিমপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক মারুফ হোসেন বলেন,নির্বাচিত ক্যাবিনেটের বয়সে গত ছয় মাসে কোন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দেখিনি, আমি সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন সময় মতামত প্রকাশ করলেও তারা তা আমলে নেয়নি। বরঞ্চ আমজাদ হোসেন প্রেসক্লাবের সভাপতি হয়েও সদস্যদের মান সম্মান রক্ষা না করে সম্মান নিয়ে টান দিয়েছেন  তাই আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।
আমি মনে করি বর্তমানে কাশিমপুর প্রেসক্লাব একটি   অচল সংগঠনে পরিনতো হয়েছে এখানে কোনো পেশাদার সাংবাদিক নেই বললেই চলে।
কাশিমপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও নবনির্বাচিত সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মোত্তাসিম সিকদার রাজীব বলেন বর্তমান সভাপতি আমজাদ হোসেন তিনি তার রাম রাজত্ব কায়েম করার জন্য ক্লাবের সদস্যদের অবমূল্যায়ন করে যাচ্ছেন। তিনি সভাপতির নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করে বেড়াচ্ছেন। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করে নিউজ করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন এই নিউজ করা যাবে না ওই নিউজ করা যাবে না। সম্প্রতি কাশিমপুর ২ নং ওয়ার্ডের একটি মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লাবের সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার এ ধরনের কর্মকান্ডের জন্য দিন দিন ক্লাবের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং কাশিমপুরবাসী সংবাদ কর্মীদের ভিন্ন চোখে দেখছেন। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আজকে আমরা বর্তমান কেবিনেটের চারজন সহ মোট ৭ জন পদত্যাগ পত্র জমা দিলাম।
পদত্যাগ পত্র গ্রহনের বিষয়ে কাশিমপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মো. মাসুদ রানা বলেন, আমার কাছে একসঙ্গে ৭ জন সাংবাদিক পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। তারা ক্লাবের কিছু অসংগতি পদত্যাগের কারণ হিসেবে লিখিতভাবে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে ক্লাবের কেবিনেট কে জানিয়েছি। মেম্বাররা সিদ্ধান্ত নিবেন।