পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ: কৃষকেরা খুশি, অস্বস্তিতে ক্রেতারা


প্রকাশের সময় : মার্চ ১৬, ২০২৩, ৮:১৭ অপরাহ্ণ / ১৬৮
পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ: কৃষকেরা খুশি, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক :- ঢাকা: আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই রমজান মাস। কিন্তু তার আগেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে অনুমতি (আইপি) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এরই মধ্যে বাজারে সংকট না থাকলেও চাহিদা বাড়ায় বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

এদিকে চাষিরা যেন তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) থেকে বন্ধ হয়েছে পেঁয়াজ আমদানি। এই সিদ্ধান্তে কৃষকেরা খুশি হলেও ক্রেতা-ভোক্তারা অস্বস্তিতে আছেন। অনেকে মনে করছেন, এর ফলে রমজানকে সামনে রেখে সিন্ডিকেটের হাত ধরে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা দাম বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামবাজার, রায়সাহেব বাজার, সুত্রাপুর, ধূপখোলা মাঠ বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি হালি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি, যা একদিন আগেও ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আর মুড়িকাটা দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি মানভেদে ২৮ থেকে ৩০ টাকা, যা একদিন আগেও বিক্রি হতো ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি। আর আমদানি করা ভারতের পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজিতে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি হালি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকায়, যা একদিন আগে ছিল মুড়িকাটা ৩২ টাকা, আর হালি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪২ টাকা। আর আমদানিকৃত ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে, যা একদিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায়। সাধারণত দেশি পেঁয়াজের দামের তুলনায় আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ টাকা কম না হলে ভোক্তারা ভারতীয় পেঁয়াজ কিনতে চান না।

বেনাপোল বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শামিম হোসেন জানান, চাহিদা কম থাকায় এবার রোজার আগে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তা নেই। তবে যেহেতু চাহিদার তুলনায় দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় না, তাই একেবারে আমদানি নিষিদ্ধ না করে কোটা নির্ধারণ করে সীমিত রাখলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম থাকতো।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরের ছয় মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৯ হাজার ৮৮৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ১৫ মার্চের পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকবে। যদি নতুন করে কোনো নির্দেশনা না আসে, তাহলে এরপর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বলেন, আমদানির অনুমতি বন্ধ হলে রমজানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে। রমজান আসতে আর কয়েক দিন বাকি। এই সময় দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র সরকার বন্ধ করলে দাম নাগালের বাইরে চলে যাবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি  বলেন, রমজানে সাধারণত নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেড়ে যায়। একটা অসাধু ব্যবসায়ী চক্র এই সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে পণ্যের দাম স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এ জন্য বাজার ঠিকমতো মনিটরিং করা দরকার।

এ বিষয়ে কৃষিসচিব বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হচ্ছে। যেহেতু এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। এখন পেঁয়াজ আমদানি হলে কৃষকরা দাম পাবে না। আমরা জানতে পেরেছি পেঁয়াজ পানির দামে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ দিয়ে বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের যে দাম তাতে কৃষকরা লোকসানে আছে। তাই আমদানি সাময়িক বন্ধ থাকবে। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে আবার আমদানির অনুমতি দেবে। আমদানি যদি সাময়িক বন্ধ হয় তাহলে কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে বাঁচবে।

তিনি বলেন, আমদানি বন্ধ হওয়াতে দাম একটু বাড়ছে। তবে সেটা কৃষকের উৎপাদন খরচের সাথে মেলালে সামঞ্জস্যপূর্ণ আছে। এখনও অতিরিক্ত কোনো কিছু হয়নি। আমরা চাই কৃষকরা একটু দাম পাক। তা না হলে কৃষকরা উৎপাদনের উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। বর্তমানে বাজারে যে দাম আছে সেটা আমি মনে করি ন্যায্যমূল্য আছে। আর কৃষকের কাছে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে সব পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে। তখন আবার দাম কমে যাবে। তাই পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে।

এদিকে রমজানের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সন্তোষ প্রকাশ করলেও আমদানিকারক এবং ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। রমজানের পণ্য আমদানির জন্য পর্যাপ্ত ডলার দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুইবার বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতে ছোলা, পেঁয়াজ, খেজুর, ভোজ্যতেল, চিনিসহ আটটি নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংক, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।