ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রী হত্যার প্রতিবাদে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২, ৬:০৭ অপরাহ্ণ / ৩০৮
ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রী হত্যার প্রতিবাদে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি :- নোয়াখালীতে ধর্ষণের পর অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। আজ শনিবার দুপুরে এসএসসি পরীক্ষা শেষে শহরের সব কটি পরীক্ষাকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

বেলা দেড়টার দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হয়। পরে তারা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে শহরের টাউনহল মোড়ে যায়। এ সময় পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা যোগ দেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থেমে থেমে বক্তব্য দেন। টানা দেড় ঘণ্টার বিক্ষোভে শহরের সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী শহরের নিজ বাড়ি থেকে এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আবদুর রহিম ওরফে রনিসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। পুলিশের দাবি, আবদুর রহিমই ওই ছাত্রীকে হত্যা করেছেন।

সমাবেশে নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা আবেদীন বলেন, ‘এত দিন আমরা মেয়েদের বলতাম, “তোমরা ঘরের বাইরে যেয়ো না, বিদ্যালয়ের আঙিনার বাইরে যেয়ো না।” কিন্তু আজ আমাদের মেয়ে তার নিজের ঘরেই নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। আমাদের মেয়েরা আজ নিজের ঘরেও নিরাপদ নয়।’ সমাবেশে বক্তৃতার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এই শিক্ষক।

এক অভিভাবক তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে নিজ বাসায় স্কুলছাত্রীর নৃশংস খুনের মধ্য দিয়ে স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরাও তাদের নিয়ে আতঙ্কিত। একা ঘরের মধ্যে রেখে গেলে কখন কোন অঘটন ঘটে। খুনের ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নিহত স্কুলছাত্রীর সহপাঠী বলে, তাদের সহপাঠীকে হত্যার ঘটনা শোনার পর থেকে তারা সবাই আতঙ্কে আছে। কারণ, এত দিন ঘরের বাইরে পথে-ঘাটে নানাভাবে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা হতো। এখন ঘরে ঢুকে দিনের বেলায় তাদের একজন সহপাঠীকে খুন করা হলো। তার ওপর অত্যাচার করা হলো। তারা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম  বলেন, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আবদুর রহিম ওরফে রনি প্রধান অভিযুক্ত। বাকি দুজন উত্ত্যক্তের ঘটনায় অভিযুক্ত। আবদুর রহিমকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।