দেবীগঞ্জে ১৭শতক জমিতে চিয়া সিট চাষ করে তাকলাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪, ৪:০৯ অপরাহ্ণ / ২৮
দেবীগঞ্জে ১৭শতক জমিতে চিয়া সিট চাষ করে তাকলাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম

মোঃ মোমিন ইসলাম সরকার দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শুরু হয়েছে সুপার ফুড হিসেবে খ্যাত চিয়া সিডের চাষাবাদ। এ বছর ইউটুব দেখে কৃষক রফিকুল ইসলাম পরীক্ষামূলকভাবে চিয়ার চাষ শুরু করেন। তার আবাদকৃত চিয়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ার আশা করছেন তিনি।মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরুভূমি অঞ্চলে চিয়া নামে এক ধরনের গাছ জন্মায়। পুদিনা পরিবারের ছোট এই গাছটির বীজ হচ্ছে চিয়া সিড। সাদা, কালো ও বাদামি রঙের চিয়া সিডগুলো আকারে খুবই ছোট, অনেকটা তিলের মতো। পানিতে ভেজালে চিয়া সিড ফুলে উঠে ১২ গুণ পর্যন্ত বড় হতে পারে।প্রাচীনকাল থেকে চিয়া সিড মানুষের রসনা তৃপ্ত করে আসছে। অ্যাজটেক এবং মায়ান সভ্যতার সময়ে চিয়া সিড খাবার প্রচলন ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি চিয়া সিড রূপচর্চা করতে ব্যবহার করা হতো। এর অনেক ঔষধিগুণ আছে বলে বিশ্বাস করত অ্যাজটেক ও মায়ান আদিবাসীরা। সে কারণে সাধারণ অসুখে চিয়া সিড খাবার প্রচলন ছিল তাদের মধ্যে।

এখন স্থানীয়পর্যায়ে, দেশের বিভিন্ন দোকান ও অনলাইনে প্রতি কেজি চিয়া সিড ৮০০ টাকা থেকে ১,০০০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশী ফসলের আবাদ এখন এ দেশের কৃষকদেরকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
উপ সহ কারি কৃষি অফিসার মোছা : গোলাপি বেগম জানায়, উপজেলার ৫নং সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের শীবের হাট গ্রামের রফিকুল ইসলাম প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তার ১৭ শতাংশ জমিতে চিয়া সিডের চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ১০-১২ হাজার টাকার ও কম খরচ হয় ।বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৮০০-১০০০ টাকা করে ।অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ জনক ফসল চিয়া সিট ।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ১৭ শতক জমিতে চিয়ার পরীক্ষামূলক চাষ করছি। খুব ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি ভালো দাম পাব ।
কৃষক রফিকুলের বাবা ও বোন বলেন আমরা আগে এর কোন উপকারিতা জানতাম না এখন উপকরিতা জানতে পারছি ।আমরাও আমাদের জন্য সেবন করতে পারবো ।
চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা :- পুষ্টিবিদরা গবেষনায় জানান, চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে কাজ করে। দিনে দুই চা চামচ চিয়া সিড শরীরের শক্তি দেয় এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করে ।প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় চিয়া সিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে। মেটাবলিক সিস্টেমকে উন্নত করার মাধ্যমে এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে। এটি রক্তে চিনির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে বলে ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমে।হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় চিয়া সিড দারুণ কাজ করে। কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। চিয়া সিড কোলন পরিষ্কার রাখতে কাজ করে বলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।
কৃষি অফিসার মো: মোঃ নাঈম মোর্শেদ বলেন চিয়া সিড পুষ্টিকর খাবার। এতে আছে দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, পালংশাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি আয়রন, কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম, মুরগির ডিম থেকে ৩ গুণ বেশি প্রোটিন, মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ।