দার্জিলিং জাতের কমলা চাষে লাভবান ঠাকুরগাঁওয়ের জয়নাল আবেদীন


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩, ৪:২২ পূর্বাহ্ণ / ৮৩
দার্জিলিং জাতের কমলা চাষে লাভবান ঠাকুরগাঁওয়ের জয়নাল আবেদীন

মোঃ আমান উল্লাহ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় ঃ ঠাকুরগাঁওয়ে দার্জিলিং জাতের কমলা বাগান করে লাভবান হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। তার বাগানের প্রতিটি গাছে ধরেছে প্রচুর ফল। ভারতীয় জাতের এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও রয়েছে অনেক। এছাড়াও বাগানটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন। বাগানেই বিক্রয় হচ্ছে দার্জিলিং জাতের কমলা।
ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানার সেনিয়া ইউনিয়নের উত্তর বঠিনা গ্রামের টাঙ্গন ব্যারেজ কমলা ও মাল্টা বাগান গড়ে তুলেছেন জয়নাল আবেদীন নামে এক চাকুরী জীবি। তিনি শখের বসে ২০১৯ সালে হর্টিকালচার থেকে চারা ক্রয় করে জমিতে রোপন করে। দুই বছরের মাথায় আশানুরুপ ফল হওয়ায় বাগানের পরিধি বাড়ায়। এখন উনার বাগানে প্রায় ৩শত টি কমলা গাছ রয়েছে।


উৎপাদিত বাগানের এসব ফল স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। প্রতি বছর বাগানের পরিধি বাড়ায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে অনেকের। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ভারতীয় দার্জিলিং জাতের কমলা। নভেম্বর মাস থেকে বাগানের উৎপাদিত কমলা বিক্রি করতে শুরু করেছে বাগান মালিক।
বর্তমানে তিনশতাধিক গাছের এই বাগানের প্রতিটিতে আট থেকে নয়শ কমলা ধরেছে। চলছে ফল বিক্রি কার্যক্রম। উৎপাদিত কমলা ক্রয়ে বাগানেই ছুটে আসছেন দূর দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। বাগান থেকেই প্রতি কেজি চায়না মেন্ডারিণ জাতের কমলা বিক্রি করছেন ১৮০-২০০ টাকা দরে। আর দার্জিলিং কমলা বিক্রি করছেন ৩০০ টাকায়। একই প্লটে লেবু, ড্রাগন সহ বিভিন্ন চারা। এ এলাকায় ফল বাগান গড়ে উঠায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য কৃষকেরাও উদ্ভুদ্ধ হয়ে নিচ্ছেন পরামর্শ।
বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী মো. হামিদুর রহমান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় পাসের গ্রাম খড়িবাড়ী থেকে এসেছি কমলা বাগান দেখতে। আমি দার্জেলিং এ বাগান দেখেছি। কিন্তু এখানে কমলা বাগান যে সুন্দর তা দার্জেলিং এর বাগানকেও হার মানাবে। আর এই কমলা অনেক মিষ্টি। আমার দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাটি তা এই বাগান দেখেই বোঝা যায়।
আরেক দর্শনার্থী শহর থেকে আসা ফিরোজ আলম বলেন, পরিবার সহ কমলা বাগান দেখতে এসেছি। আগে কমলা বাগান শুধু ছবিতেই দেখেছি। আজ বাস্তবে গাছে ঝুলন্ত কমলা দেখলাম। আর পুরো বাগানে কমলা ঝুলে রয়েছে। দেখতেই অনেক সুন্দর লাগছে। কমলা ক্রয় করে খেলাম অনেক মিষ্টি ও রসালো কমলা। এই কমলা খেয়ে মনে হল না যে আমার দেশের মাটিতে উৎপাদিত কমলা খাচ্ছি। পরিবারের সকলে খুশি এমন কমলা বাগান দেখতে এসে।
পাশর্^বর্তী পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়ন এবং ঠাকুরগাঁওয়ের দেবীপুর ইউনিয়নের মাঝামাঝি শ্যামাগাঁও এলাকার কমলা বাগানের মালিক মাসুদ রানা বাগান দেখতে এসে বলেন, আমার বাগানেও কমলা গাছ রয়েছে। তবে এই বাগান খুব সুন্দর করে যত্ন করার কারণে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়াও ফলের সাইজ ও রং একবারে ঠিকঠাক হয়েছে। আমি বাগান মালিক জয়নাল ভাই এর সাথে বাগান নিয়ে আলোচনা করার জন্য এসেছি। কমলা বাগান আমাদের দেশের কৃষক করলে একদিকে যেমন লাভবান হবে নিজেরা, অন্যদিকে দেশে ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরনে ভূমিকাও পালন করবে।


বাগান মালিক জায়নাল আবেদীন জানান, কমলা বাগানে প্রথম থেকেই দেখা শুনা করেন আমার বড় ভাই আব্দুল কাদের আর ভাগিনা রফিকুল ইসলাম। ভাগিনা বাগানের প্রথম থেকেই দেখা শুনা করে আসতেছে। রফিকুল ইসলাম জানায়, আমাদের বাগানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজারের উপর মানুষ আসে এই বাগান দেখতে। আমাদের বাগানে ৮/১০ জন কাজ করে। কমলা গাছ থেকে পারার জন্য ৩/৪ জন কে কাজ করতে হয়। এছাড়া ফল চুড়ির ভয়ে পাহাড়া দিতে হচ্ছে।
দার্জিলিং জাতের কমলার বাগানের মালিক জয়নাল আবেদীন বলেন, এই বাগান থেকেই এবার দশ হাজার মেট্রিকটন কমলা উৎপাদন হবে আশা করছি। এর আগে আমি ফল পাইকারি বিক্রয় করে দিতাম। এবার সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বাগানটি ভাইরাল হয়েছে। সেজন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই বাগান দেখতে আসে। তবে কৃষকরা যদি এভাবে কমলার বাগান করতে এগিয়ে আসে তাহলে কৃষিতে একটা বিপ্লব ঘটবে। আর কমলা দেশের বাহির থেকে আনতে হবে না। আমাদের দেশের কমলা দিয়েই ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হবে বলে আমি মনে করছি। এছাড়াও আমার কাছে কেও বাগান সম্পর্কে জানতে আসলে বাগান করতে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছি।
উল্লেখ্য, কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জেলায় ৭৩ হেক্টর জমিতে মালটা ও কমলার বাগান রয়েছে ১ হাজার ৩২টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সহ সীমান্তবর্তী উপজেলা পীরগঞ্জ ও হরিপুরে ভারতীয় দার্জিলিং জাতের ৭ টি কমলা বাগান গড়ে উঠেছে।