ArabicBengaliEnglishHindi

তিস্তা সেচ প্রকল্প ৬ লাখ কৃষকের ৭০ কোটি টাকা সাশ্রয়


প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২২, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ / ১৪৭
তিস্তা সেচ প্রকল্প ৬ লাখ কৃষকের ৭০ কোটি টাকা সাশ্রয়
তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় রংপুর বিভাগের তিন জেলার ১২টি উপজেলা তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এসেছে।
১২ উপজেলায় এবার ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, সেচ খালের পানিতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এটা সর্বোচ্চ চাষাবাদ। কারণ, সেচ খাল থেকে নামমাত্র খরচে পানি পাচ্ছেন কৃষকেরা। এতে ছয় লাখ কৃষকের সেচ বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এবার রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার ১২টি উপজেলা তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। এগুলো হলো রংপুর সদর, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া; নীলফামারী সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলা। নীলফামারীতে ৩০ হাজার, রংপুরে ২৫ হাজার ও দিনাজপুর জেলায় ১৫ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ হচ্ছে ওই সেচ খালের পানিতে।
পাউবো জানায়, তিস্তা সেচ খালের পানি দিয়ে ২০১৪ সালে ১৮ হাজার হেক্টর, ২০১৬ সালে ১০ হাজার, ২০১৭ সালে ৮ হাজার, ২০১৮ সালে ৩৫ হাজার, ২০১৯ সালে ৪০ হাজার ও ২০২১ সালে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়।
রংপুর পাউবোর মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আবদুল হাকিম বলেন, বৈদ্যুতিক মোটর কিংবা ডিজেলচালিত যন্ত্রের সাহায্যে পানি সেচ দিলে কৃষকদের একরপ্রতি খরচ গুনতে হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা। এতে ৭০ হাজার হেক্টরে সেচ বাবদ খরচ হয়ে যায় ১১০ কোটি টাকা। কিন্তু তিস্তা সেচ খালের পানি ব্যবহার করায় একরপ্রতি কৃষকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪৮০ টাকা। এতে ৭০ হাজার হেক্টরে চাষাবাদ করতে সেচ খরচ হবে মাত্র ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ কৃষকের সাশ্রয় হবে ১০০ কোটি টাকা।
তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী বলেন, প্রকল্পের আওতায় ২৮১টি কৃষক দল রয়েছে। পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে ‘রোটেশন’ পদ্ধতিতে। পুরো বিষয়টি নজরদারি করে পাউবো।
গত বুধবার দুপুরে নিজের বোরো খেতে সেচ খাল থেকে পানি নিতে ব্যস্ত ছিলেন নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক আলম মিয়া (৫০)। তিনি বলেন, ‘এই যে দ্যাকো ক্যানেলের পানি ভুঁইয়োত সরসর করি ঢোকোচে। ইচ্ছামতো পানি নিবার পাওচি।’
সেচ সুবিধা পাওয়া গঙ্গাচড়া উপজেলার গঞ্জিপুর এলাকার কৃষক বাহাদুর শাহ বলেন, ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে ও বিদ্যুৎ–চালিত সেচ পাম্প দিয়ে একরপ্রতি বোরো ধান চাষে সেচ খরচ পড়ে কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেলের পানি নিয়ে আবাদ করতে ওই পরিমাণ জমিতে খরচ হয় ৪৮০ টাকা। পানি ইচ্ছেমতো নেওয়া যায়, ফলন বেশি হয়। ধানখেতে ও ক্যানেলে মাছ চাষও করা যায়।
রংপুর পাউবো সূত্র আরও জানায়, রংপুর বিভাগের তিন জেলায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার কাজ চলছে। ২০২১ সালের ৩ জুলাই থেকে এই কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সেচযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৭ হাজার হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টরে। অন্য ফসলের উৎপাদনও বাড়বে।
ম‌মিন মিল্লাত, রংপুর।
%d bloggers like this: