ডাহুক নদী থেকে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২২, ১০:০৩ অপরাহ্ণ / ১১০
ডাহুক নদী থেকে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে

মোঃ মোমিন ইসলাম সরকার পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :-পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ডাহুক নদী এখন আবারও পাথর খেকোদের অভিস্রবণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । নদীর বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে বিক্ষিপ্তভাবে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলন করছেন স্থানীয় লোকজন। এর ফলে নদীর চিরচেনা রূপ, বৈচিত্র্যের সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

একই সঙ্গে নদী সংলগ্ন ব্যক্তিগত জমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিনদিন নদীর গতিপথ ভিন্ন দিকে ঘুরে যাচ্ছে। নদী গভীরতা হারিয়ে প্রশস্ত হচ্ছে। এতে বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিতেই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুই পাড়ের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বালাবাড়ি-সরকার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাহুক নদীতে ট্রাক্টর দিয়ে নদীতে গভীর গর্ত করে পাথর ও বালু তুলছেন স্থানীয় লোকজন। এতে করে নদী তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে চরে পরিণত হচ্ছে। কমছে পানি প্রবাহ।

নদীর প্রশস্ততা বেড়ে কমেছে গভীরতা। নদীর দুই তীর ভেঙে অনেকে জমি ও বাগান বিলীন হয়েছে। নদীতে জমি ও বাগান হারানোদের একজন উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের নাজিরাগছ এলাকার আফরোজা বেগম। শালবাহান ইউনিয়নের বালাবাড়ি মৌজার ১৮১৯ দাগে ৮০ শতক এবং ১৮২০ দাগে ৩৩ শতক জমি আছে তার। এর মধ্যে ডাহুক নদীতে ঐ মৌজার তার অনেক জমি চলে গেছে। একই সঙ্গে তার মেহগনি গাছের বাগানের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঐ এলাকার নদীর বর্তমান গতিপথ প্রবাহিত হচ্ছে তার জমির উপর দিয়ে।

পাথর খেকোরা বর্তমানে নদী থেকে পাথর তুলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছেন। এ নিয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এরপরেও থেমে নেই নদী থেকে পাথর উত্তোলন। ভুক্তভোগী আফরোজা বেগম বলেন, নদীর বর্তমান গতিপথ আমার জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শালবাহান ইউনিয়নের বালাবাড়ি মৌজার ১৮১৯ দাগে ৮০ শতক ও ১৮২০ দাগে ৩৩ শতক জমির খাজনা প্রতি বছর দিয়ে আসছি। জমির রেকর্ডও হচ্ছে আমার নামে। এছাড়া নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় আমার স্বামীর অনেক জমি রয়েছে।

সেগুলোরও খাজনা দেওয়া হয় নিয়মিত। কিন্তু প্রতিদিন ডাহুক নদীর বালাবাড়ি-সরকার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক্টর দিয়ে পাথর তোলা হচ্ছে। এতে করে নদীর পাড় ভেঙে আমার জমি ও মেহগনি গাছের বাগান দিনদিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের জলিল, হিমু, মস্তান, হাসানসহ ১৫ থেকে ২০ জন নদীর ঐ অংশে পাথর উত্তোলন করছেন। তারা মূলত সন্ত্রাসী। আমি তাদের পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে বললে তারা আমাকে উল্টো হুমকি দেন। পরে আমি তেঁতুলিয়া সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। পরে আদালত ঐ জমির উপর একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। কিন্তু এতেও থেমে নেই তারা। আমি এই দুষ্কৃতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।