ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতাকর্মী কারাগারে


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২২, ৭:৫২ অপরাহ্ণ / ১১৪
ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতাকর্মী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক:- রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিনের দায়ের করা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আকতার হোসেন ও সম্পাদক আকরাম হোসেনসহ ২৪ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।আগামী ১১ অক্টোবর ছাত্র অধিকারের ২৪ নেতাকর্মীর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি হেমায়েত উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মুহাম্মদ আরিফুল হক তপু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১১ অক্টোবর তাদের জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।

কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. তসলিম হোসাইন অভি, আবদুল কাদের, মো. তরিকুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, নাজমুল হাসান, রাকিব, আরিফুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, এইচএম রুবেল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, মিজান উদ্দিন, বেলাল হোসেন, ওমর ফারুক জিহাদ, আবু কাউছার, জাহিদ আহসান, মোয়াজ্জেম হোসেন রনি, সানাউল্লাহ, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, মো. রাকিব, সাজ্জাদ হোসেন পারভেজ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল (৭ অক্টোবর) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত সভায় ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে থাকা চেয়ার ও মাইক ভাঙচুর করেন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ব্যানার-ফেস্টুনও। এতে পণ্ড হয়ে গেছে ছাত্র অধিকার পরিষদের সমাবেশ। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ১১ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান বলেন, ‘তারা (ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা) ক্যাম্পাসে বহিরাগত, মৌলবাদীদের নিয়ে কর্মসূচি করে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করতে যাই, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কি না? এ সময় তারা কোনো কিছু না দেখিয়ে উল্টো আমাদের ওপর হামলা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করেছে।

পরে আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে সেখানে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষের সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেনসহ অন্তত ১৫ জনকে পুলিশ আটক করে বলে জানান পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। অন্যদিকে পুলিশ জানায়, তারা ২০-২২ জনকে আটক করে।আটকদের নেওয়া হয় শাহবাগ থানায়।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘আমরা টিএসসিতে একটি প্রোগ্রামে আসছিলাম। সেখানে এসে দেখি বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে কর্মসূচি করছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করি তারা ক্যাম্পাসের কি না। এ সময় তারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে হামলা চালায় আমাদের ওপর। এতে আমিসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।’