কালিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংখ্যালঘুকে মারপিটের অভিযোগ!


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২৩, ১:৫২ অপরাহ্ণ / ২২
কালিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংখ্যালঘুকে মারপিটের অভিযোগ!

মোঃ জিহাদুল ইসলাম, খুলনা ব্যুরো

নড়াইলের নড়াগাতীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খোকন দাশ নামে এক ব্যক্তিকে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী কাঠাদুরা গ্রামের নিছারোদ্দিন খানের ছেলে বুলু খান, শাহা খানের ছেলে ভরত ওরফে বিপুল খান ও ইয়ার আলী শেখের বিরুদ্ধে। ২৩ নভেম্বর বিকেল ৫ টায় মাউলী নায়েব অফিসের সামনে এ মারপিটের ঘটনা ঘটে। খোকন দাশ বর্তমানে লোহাগড়া থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। সে মহাজন বাজারের মৃত সুবাস দাশের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানান, মহাজন বাজারে ফেরীঘাট সংলগ্ন একই দাগের জমিতে পশ্চিম পাশে খোকন দাশ ও পূর্ব পাশে ভোলা দাশ গং বসবাস করত। প্রায় ২০ বছর আগে ভোলানাথ দাশের আংশিক জমি বাদে বাকি সব নদী গর্ভে বিলীন হয়। বিগত ৬ মাস আগে ভোলানাথ ওই জমি কাঠাদুরা গ্রামের প্রভাবশালী বুলু খান, ভরত ওরফে বিপুল খান ও ইয়ার আলী শেখের নিকট বিক্রি করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তরা ক্রয়কৃত জমি দখল নিতে গিয়ে জোরপূর্বক খোকন দাশের অংশে ঢোকার চেষ্টা করে।
ওই ওয়ার্ডের মেম্বার বিজন বিশ্বাস ও স্থানীয় সঞ্জয় দাশ জানান, ভরত বিশ্বাসের অংশ নদীতে বিলীন হয়ে সামান্য অংশ ওপরে আছে। সেটুকুই দখল নিলে কোন বিরোধ থাকে না। খোকন দাশ তাদের অংশে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছে। তাদের ভিতরে ঢোকা ঠিক হয়নি।
খোকনের বৃদ্ধ মা কবিতা রানী ও স্ত্রী দুর্গা রানী দাশ বলেন, তার শশুর-শাশুড়ীর আমল থেকে এই জমিতে বসবাস করে আসছেন। বাহিরের মানুষ এসে জোরজুলুম করে আমার ছেলেদের এখানে থাকতে দিবেনা। ছেলেকে মারপিট করে আহত করেছে। ওই জমি দলিল করতে গেলে কাগজ না থাকায় দলিলও হয়নি বলে জানান তারা। এই জমির জন্য খোকন ইউনিয়ন নায়েব অফিসে গেলে মারপিট করে তারা। ওরা আমাদের থাকতে দিবেনা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা।
প্রতিবেশী দিপালী দাশ বলেন, খোকনকে মারার সময় তার ছেলে বরুন ওখানে ছিল, তার থেকেইে মারার ঘটনা তিনি শুনেছেন।

প্রতিবেশী জ্যোস্না রানী বলেন, আমার বিবাহিত ৫০/৬০ বছর ধরে দেখতেছি খোকনরা পশ্চিমে ও ভোলারা পূর্ব পাশে বাস করছে। ভোলাদের অংশ নদীতে ভেঙ্গে গেছে। ওপরের সামান্য অংশ প্রভাবশালী মুসলমানদের কাছে বিক্রি করেছে। তারা এখন ওপরেও জমি দাবি করে এদের উপর অত্যাচার করছে।
ভুক্তভোগী খোকন দাশ বলেন, ওই দাগে ৩৭ শতক জমির আমাদের নামে ১৮ শতক ও ভোলানাথ গং এর নামে ১৮ শতক রেকর্ড হয়। বিগত ২০ বছর আগে ভোলানাথ গং এর অংশ নদীতে ভেঙ্গে যায়। সেই জমি প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করে আমার অংশে ঢোকার জন্য নির্যাতন শুরু করেছে। ঘটনার দিন এসিল্যান্ডের নির্দেশক্রমে একটি কাগজ আনতে মাউলী ভুমি অফিসে গেলে ওরা ৬/৭জন আমাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে ভোলানাথের সাথে কথা হলে বলেন, বুলু খান, ভরত ওরফে বিপুল খান ও ইয়ার আলী শেখের নিকট বিগত ৬ মাস আগে তিনি ৯ শতক জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু বাঁধা আসার কারণে দলিল করে দিতে পারেননি। তবে ওই জমির পূর্ব পাশে নদীর পাশেই তাদের অংশ বলে স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়ার আলী শেখের সাথে কথা হলে বলেন, ঘটনার সময় তিনি নায়েব অফিসের ভিতরে ছিলেন। তবে খোকনকে কেন মারপিট করা হয়নি। সামান্য ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।