একই সাথে সফল গীতিকার ও সাংবাদিক ‘কবির বকুল’ 


প্রকাশের সময় : মার্চ ১৬, ২০২৪, ১২:২০ অপরাহ্ণ / ৫৯
একই সাথে সফল গীতিকার ও সাংবাদিক ‘কবির বকুল’ 

শোয়েব হোসেন,স্টাফ রিপোর্টারঃ

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় গীতিকার ‘কবির বকুল’। একের পর এক গান লিখে গীতিকার হিসেবে তিনি গানের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠেছেন।বিশেষ করে গত দুই দশক ধরে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা তার গানেই।কবির বকুল চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান লিখেন ‘অগ্নি সন্তান’ সিনেমায়।

১৯৯৮ সালে আইয়ুব বাচ্চু ও কনকচাঁপার গাওয়া ‘সাগরিকা’ সিনেমার “আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে” গানটি শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরেছিল। আলাউদ্দিন আলীর সুরে এই সিনেমায় গান লিখেছিলেন দুই বাংলার বিখ্যাত গীতিকারগন।এদের মাঝে চলচ্চিত্রে নবীন গীতিকার হিসেবে কবির বকুলের লেখা এই গানটিই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিলো। এর বিশাল সাফল্যে তখন থেকেই তিনি গীতিকার হিসেবে ব্যস্ত হয়ে উঠেন।
প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন ‘বলো না কেন আকাশ’ গানের জন্য।এরপর পান ‘একটা চাঁদ ছাড়া রাত আঁধার কালো ও রুপালি চাঁদ নেমেছে’ গানের জন্য।তিনি পরপর তিনবার জিতেছিলেন পুরস্কার।দুই বছর বিরতিতে আবার পান ‘আমি নি:স্ব হয়ে যাবো’ গান দিয়ে।সর্বশেষ  ‘রাতের সব তারা আছে’ গান দিয়ে ষষ্ঠ বারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেন।যদিও নিজের সেরা গানগুলোর জন্য জাতীয় পুরস্কার না পাওয়াটা হয়তো অপ্রাপ্তি থেকে যাবে বলেই ভক্তরা ধারণা করেন।
জানা যায়, একটা গানের সৃষ্টির পেছনে বেশিরভাগই ভূমিকা থাকে গীতিকার,সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীর।এরমধ্যে শুধুমাত্র গীতিকারগন একটু কম সুনাম ও পরিচিতি পেয়ে থাকেন এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবুও গান লিখে বিখ্যাত হয়ে আছেন অনেক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। বাংলা চলচ্চিত্রে গীতিকার হিসেবে সর্বাগ্রে আছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার,খান আতাউর রহমান,আমজাদ হোসেন,মাসুদ করিম,মনিরুজ্জামান মনির,নজরুল ইসলাম বাবু ও মো: রফিকুজ্জামান প্রমুখ।সুরকারের পাশাপাশি গীতিকার হিসেবেও সমান রাজত্ব করেছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। বলা যায়,তাদেরই উত্তরসুরী হিসেবে সর্বস্তরে গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছেন কবির বকুল।
বর্তমান বাংলা চলচ্চিত্রে এখন মানসম্মত গানের খড়া। তবুও গত দুই দশকে বেশিরভাগ জনপ্রিয় গানের গীতিকার কবির বকুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের পড়াশুনার পাঠ চুকানোর মাঝেই গায়ক তপন চৌধুরীকে নিজের লেখা ১৩টি গান দিয়েছিলেন।সেইখান থেকেই আইয়ুব বাচ্চু বেছে নিয়েছিলেন ‘কাল সারা রাত তোমারই কাকন যেন কানে কানে রিনিঝিনি বেজেছে’। সোলসের নাসিম আলী খান নিয়েছিলেন ‘পথে যেতে যেতে’ গানটি।পরবর্তীতে সোলস ব্যান্ডের গাওয়া বিখ্যাত গান ‘কেনো এই নি:সঙ্গতা,ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর’ ওনারই সৃষ্টি।
চলচ্চিত্রে জেমসের প্রথম মৌলিক প্লেব্যাক ‘আসবার কালে আসলাম একা’ থেকে হাবিব ওয়াহিদের গাওয়া ‘তোমারে দেখিলো পরান ভরিয়া’ গান লিখেছেন।আরো আছে বঁধূ বেশে কন্যা যখন এলো রে,এই হৃদয়ের সাদা কাগজে,এতো ভালোবেসো না আমায় ইত্যাদি। ইদানীং কালের  হিট গান ‘দিল দিল’ ও ‘তুই কি আমার হবি রে’ ওনারই লেখা।
কবির বকুলের লেখা ‘কেউ প্রেম করে,কেউ প্রেমে পড়ে’,দারুণ মুগ্ধ করা এই গানটি এস আই টুটুলের ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।এই দুইজনের রসায়ন খুব ভালো জমে ওঠে লিখনির বৈশিষ্ট, সুরের মাদকতা থেকে কন্ঠের মাধুর্যতা পর্যন্ত। টুটুলের জন্য যেমন ‘যায় দিন যায় একাকী’ লিখেছেন তেমন ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’ও লিখেছেন। টুটুল নিজের গানের বাইরেও কিছু গানগুলোতে সুর করে নিজেকে আরো অনন্য করেছেন যেমন  ‘প্রেমে পড়েছে মন’,আমার মাঝে নেই এখন আমি,দু:খ টাকে দিলাম ছুটি,স্বপ্ন তুমি সত্যি তুমি,হও যদি ঐ নীল আকাশ’ এই সবগুলো গানেরই গীতিকার কবির বকুল।
বলা বাহুল্য, গীতিকার হিসেবে চলচ্চিত্রে যখন যাত্রা শুরু করেছিলেন, তখন চলছিল ঘোর অমানিশা। জীবিকার তাগিদেই হউক কিংবা মোহে বেশকিছু অশ্লীল গান লিখেছিলেন যা ক্যারিয়ারে কাঁটা হয়ে আছে। অন্যদিকে  পরিচালকের অশ্লীল দৃষ্টিভঙ্গির কারনে তাঁর সুন্দরতম গান ‘দুজন দুজনার’ এর দৃষ্টিকটু উপস্থাপন অবশ্য জনমনে পীড়া দেয়।
এর পাশাপাশি তিনি পেশায় সাংবাদিকতাও করেন।নব্বই দশকের ভোরের কাগজ পেরিয়ে এখন আছেন প্রথম আলোতে।এই পেশতেও তার সফলতা তুংগে।তার পরিবারে রয়েছে তিনটি সন্তান।স্ত্রী দিনাত জাহান মুন্নি গায়িকা ও উপস্থাপিকা। কবির বকুল বিটিভিতে “সঙ্গীত সম্ভার”  নিজ উপস্থাপনায় করেন। তার মতে, এখনো অনেক দেয়ার বাকি রয়েছে। আরো চমৎকার মানের গান তিনি আমাদের উপহার দিবেন বলে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।