ArabicBengaliEnglishHindi

আরব বিশ্বের জটিল ভূরাজনীতিতে বাঁক বদলের সম্ভাবনা


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৭, ২০২২, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ / ৩০
আরব বিশ্বের জটিল ভূরাজনীতিতে বাঁক বদলের সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :-
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ধূলিঝড়ের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভবত ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সঙ্গে আরব বিশ্বের একটি অংশের সম্পর্কোন্নয়ন চুক্তি। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন, এরপর মরক্কো ও সুদানের সঙ্গে ইসরায়েলের এ চুক্তি (আব্রাহাম অ্যাকর্ড) হয়। ২০২৩ সালের জন্য একটি বড় প্রশ্ন হলো, এই নবগঠিত অর্থনৈতিক জোট আরও সমৃদ্ধ ও প্রসারিত হবে কি না।
জর্ডান ও মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের শক্ত শান্তিচুক্তি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের পেছনের দরজা দিয়ে যোগাযোগ আরও বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও ডি ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরায়েলি স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে সৌদি আরবকে ‘আব্রাহামিক ক্লাবে’ যোগদানের ক্ষেত্রে পরবর্তী সারিতে বিবেচনা করা হলেও যতদিন বাদশাহ সালমান সিংহাসনে থাকবেন এবং ফিলিস্তিনের সঙ্গে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের অগ্রগতি না হচ্ছে, ততদিন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই ইসরায়েলের।
এ অঞ্চলের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিভেদটি আজও রয়ে গেছে- শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব। আরব বিশ্বে সুন্নি মুসলিমরা বেশি প্রভাবশালী। তবে ইরানে পুরোপুরি এবং সিরিয়া ও ইয়েমেনে শিয়াদের শক্তিশালী শাখা রয়েছে। যদিও এই দ্বন্দ্ব অপরিবর্তনীয় নয়। উপসাগরীয় কিছু দেশ ইরানের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার ব্যবস্থা করতে পারে; যেমন- আমিরাত ও কাতার। বিপরীতে, সৌদি আরব সম্ভবত বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো থেকে বিরতই থাকবে।
পরমাণু পরিকল্পনা নিয়ে পশ্চিমা শক্তি এবং ইরানের মধ্যে চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম; বিশেষ করে, তেহরানে যদি আয়াতুল্লাহরা ক্ষমতায় থাকেন। কিন্তু ক্রমাগত গণ-বিক্ষোভের মুখে ইরানের শাসকদের পতন হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমবে। হয়তো ইসরায়েলও ইরানের সঙ্গে ফের কথা বলতে পারে।
এ অঞ্চলে ইরানের প্রধান সমর্থক সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ। পশ্চিমারা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যতদিন ব্যস্ত থাকবে, ততদিন তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আসাদ সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চাইবেন। তবে তুরস্ক ও ইরাকের সীমান্তবর্তী সিরীয় অঞ্চলগুলোতে সহিংসতা দেখা দিতে পারে। আমিরাত-কাতারের মতো যেসব আরব দেশের শাসকরা আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছিলেন, তারা আবার বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। তুরস্কও তাই। ইউক্রেনে জর্জরিত রাশিয়া হয়তো তার সিরীয় মিত্রদের পতন ঘটতে দেবে।
২০২৩ সালেও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দেশ থাকতে পারে ইয়েমেন। তবে গত এপ্রিলের মতো যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে ফের যুদ্ধবিরতি দেখা যেতে পারে। লিবিয়াতেও দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলমান থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জনবহুল দেশ আলজেরিয়া এবং প্রতিবেশী মরক্কোর মধ্যে পশ্চিম সাহারা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলবে। ফসফেট-সমৃদ্ধ এলাকাটি নিজের বলে দাবি করে মরক্কো, তবে তাতে আপত্তি রয়েছে আলজেরিয়ার। মরক্কো হয়তো বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সমর্থন আদায় করতে পারে, তবে আলজেরিয়া পথ ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
%d bloggers like this: