ArabicBengaliEnglishHindi

অনিন্দ্যকে লেখা


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২, ১২:৩২ অপরাহ্ণ / ২৮
অনিন্দ্যকে লেখা
 আলম
অনিন্দ্য!
কতো বসন্ত এলো! নতুন করে শাখায় গজায় কুঁড়ি!
ফাগুনের ডাকে সেই শাখা হয় রঙ্গিন!
পাতায় পাতায় চলে সুখের মাতম।
চলে যায় দিন শেষে বছর!
কতোদিন আর দেখা হয় না আমাদের!
কিন্তু জানো—!তোমার সাথে আমার প্রতিদিনই কথা হয়!
ভাবনার রাজ্যে, খাতার পাতায়, নীরবে নিভৃতে।!
মনে আছে অনিন্দ্য—
তুমি বলতে তোমাকে যেন রোজ একটা করে চিঠি লিখি!
তাই আজো নিয়ম করে লিখে যাই!
কতো চিঠি যে আজ জমা হয়েছে।
স্বযত্নে রাখা কিছু চিঠির বুকে নীরবে ঘুণ পোকারা বাসা বেঁধে ঝাঁঝরা করেছে তাদের বুক।
ঠিক যেন আমারই বুকের মতো!
জানো অনিন্দ্য—–
মাঝরাতে আমি তাদের করুণ আর্তনাদ শুনি—
“মুক্তি চাই ” ——-বলে।
কিন্তু আজ তো তোমার ঠিকানা আমার জানা নেই!
তাই আজ আর তাদের মুক্তি দিতে পারি না!
পাতা কুড়ানীর মতো নিত্য সুখ খুজি মনের অরণ্যে।
আর তোমাকে লেখা  প্রতিটি চিঠির ভাঁজে ভাঁজে।
অনিন্দ্য!
তুমি এখন কেমন আছো! বড্ড জানতে ইচ্ছে হয়!
হয়তো অনেক ভালো কাটছে তোমার দিন।
আচ্ছা,আমার মতো তোমার ও কি আমার কথা মনে পড়ে?
জানো,—-এখনো অবেলায় চোখের কোণে জল এসে ঝাপসা করে দিয়ে যায় দৃষ্টি।
নোনাজল হয়ে স্মৃতিরা গড়িয়ে অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে যেতে কিছু স্মৃতি যেন রেখে যায় মানস পটে।
তোমার সেই দুষ্ট মিষ্টি খুঁনসুটি,
ভালোবাসার আদরে জড়ানো সেই মিষ্টি ডাক,
আর তোমার দেওয়া স্মৃতিগুলো আমাকে যে এখনো পোড়ায় দাবানল হয়ে।
কত বরষা গড়িয়ে গেল—-
তবু তোমার স্মৃতিগুলো ধুয়ে গেল না চোখের প্লাবনের স্রোতে।
মনে পড়ে অনিন্দ্য———?
তোমাকে লেখা আমার প্রথম সেই চিঠিটা আমি তোমাদের বাড়ির আঙিনার পাশে সেই শিউলি গাছটার তলায় ফুল কুঁড়ার ছলে ফেলে এসেছিলাম।
আর তোমাকে ইশারায় বলতেই তুমি তা ভোঁ দৌড়ে নিয়ে এলে।
তখন কতইবা বয়স হবে!
বোধ হয় পনের! আর তোমার  আঠারো হবে হয়তো!
আজ আমার বয়স প্রায় চল্লিশের কোঠায়।
সেই শিউলি গাছটা ও বয়সের বাড়ে নুয়ে পড়েছে। দেখতে আমারই মতো যেন মৃতসার।
তবুও মনে হয় আমি কেন জানি ভালো আছি।
তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আর স্মৃতির সাথে  বসবাস করি।
মনে পড়ে অনিন্দ্য —?
তোমার সাথে প্রথম যেদিন দেখা করতে গিয়েছিলাম সেই পার্কে!
তুমি একগুচ্ছ গোলাপ হাতে বাড়িয়ে দিয়ে বলেছিলে”অ–নে–ক ভালোবাসি তোমায়।”
আমি অবাক নয়নে  তোমার চোখে সেদিন ভালোবাসার ফাগুন দেখেছিলাম!
আর শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম।
সেই ভালোবাসার ফাগুন রাঙা আগুন আর কারো চোখে দেখতে পাইনি বলে আজো একা রয়ে গেলাম।
কিন্তু জানো!
তাতে আমার কোন আক্ষেপ নেই।
আক্ষেপ শুধু —-
কেন সেদিন তুমি আমায় ভুল বুঝছিলে?
কেন আর একটিবার ভুল ভাঙাতে আসলে না?
কেন তুমি ঠিকানাবিহীন হলে?
কেন নিঃসঙ্গতা জুড়িয়ে দিলে?
আজো এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজে যাই একাকী শোকাহত হৃদয়ে।
তবে যেখানেই থাকো! তুমি ভালো থেকো।